নজরবন্দি ব্যুরোঃ টীকা নিয়েও করোনায় মৃত্যু রাজ্যের ভ্যাকসিন বণ্টনের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্তার। করোনার মারন কামড়ে নাজেহাল গোটা দেশের মানুষ। এ রাজ্যেও ভয়ঙ্কর হারে বেড়েছে সংক্রমণ। এমন অবস্থায় রাজ্য হারাল এক প্রথম সারির কোভিড যোদ্ধাকে। তিনি রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্তা গৌতম চৌধুরী। গতকাল গভীর রাতে দক্ষিণ কলকাতার একটি হাসপাতালে তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের ভ্যাকসিনের সুপার ভাইজার ছিলেন গৌতম চৌধুরী।
আরও পড়ুনঃ আজ কেন্দ্রকে শো-কজের জবাব পাঠাবেন আলাপন, সঙ্গে যাবে রাজ্যের চিঠি


তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে। কারন করোনার প্রথম ও দ্বিতীয় ঢেউয়ে সামনে থেকে লড়াই চালিয়েছেন গৌতম বাবু। এপ্রিল মাসে করোনা আক্রান্ত হন এই প্রশাসনিক কর্তা। সংক্রমিত তাঁর স্ত্রীও। দুজনই বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন। আজই তাঁর মৃত্যু সংবাদ জানানো হয় হাসপাতালের পক্ষ থেকে। প্রসঙ্গত করোনার প্রকৃত যোদ্ধা ছিলেন তিনি। গোটা রাজ্যের করোনা টিকা আনা, রাজ্য জুড়ে টিকা বন্টন করার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন গৌতমবাবু।
১০২ টি অ্যাম্বুলেন্সের দায়িত্বে ছিলেন এই শিশু স্বাস্থ্য আধিকারিক। করোনার প্রথম দ্বিতীয় দুই ঢেউয়েই তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সামনে থেকে। কেন্দ্রের পাঠানো টিকা এয়ারপোর্ট থেকে আনা, বাগবাজারের সেন্ট্রাল হেলথ স্টোরে তা নিয়ে যাওয়া, সেখান থেকে গোটা রাজ্যের সর্বত্র তা কী ভাবে পৌঁছবে সবটাই দেখতেন তিনি। পাশাপাশি এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাজ্যের বহু সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের গতিবিধি তদারকি ছিল তারঁই দায়িত্ব।
টীকা নিয়েও করোনায় মৃত্যু রাজ্যের ভ্যাকসিন বণ্টনের দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্তার। কবে কখন কত টিকা আসতে পারে, সংবাদমাধ্যম হোক বা প্রশাসন, খবরের জন্য তিনিই ছিলেন সংযোগ সূত্র। সিরাম ইন্সটিটিউট বা ভারত বায়োটেক এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি। পরিস্থিতি বুঝে বিমানের ব্যবস্থাপনাও করে এসেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি বলেই বারবার আক্ষেপ শোনা যাচ্ছে রাজ্যের চিকিৎসামহলের মুখে।









