‘আমি ভবানীপুর ছাড়লে আবার দাঁড়াত ও’! নন্দীগ্রাম না ছাড়ার বার্তা শুভেন্দুর, সংখ্যালঘুদেরও দিলেন ডাক

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে প্রচারে গিয়ে ভবানীপুরের বিধায়ক থাকার কারণ ব্যাখ্যা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের ভোটার হিসেবে থেকে যাওয়ার পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের উদ্দেশেও দিলেন বার্তা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নন্দীগ্রাম তাঁর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়—বারবার সেই সম্পর্কের কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে জেতার পর কেন তিনি সেই আসন ছেড়ে ভবানীপুরের বিধায়ক থাকার সিদ্ধান্ত নিলেন, শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে গিয়ে তার ব্যাখ্যা দিলেন তিনি। একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, বিধায়ক পদ ছাড়লেও নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে না। বরং ভোটার তালিকায় নন্দীগ্রামের বাসিন্দা হিসেবেই থেকে যাওয়ার কথা বলেছেন তিনি।

হরিপুরের দেবীপুর হাই স্কুল মাঠে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের সমর্থনে সভা করেন শুভেন্দু। সেখানেই নিজের নির্বাচনী আসন বেছে নেওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ভবানীপুর আসনটি ছেড়ে দিলে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সেখানে আবার নির্বাচনে দাঁড়াতে পারতেন। সেই কারণেই ভবানীপুরের বিধায়ক থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে নন্দীগ্রাম ছাড়ছেন না—এই বার্তাই এ দিন সভায় বারবার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর প্রায় ২৫ বছরের সম্পর্ক। ২০২১ এবং ২০২৬-সহ পরপর বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের মানুষের সমর্থনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর কথায়, পদ বদলাতে পারে, কিন্তু নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বদলাবে না।

শুভেন্দু বলেন, নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম আগে ছিল, এখনও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। অর্থাৎ বিধায়ক না থাকলেও নন্দীগ্রামের ভোটার হিসেবেই থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই বক্তব্য মূলত স্থানীয় সমর্থকদের মধ্যে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করার উদ্দেশ্যেই দেওয়া বলে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট।

এ দিনের সভা থেকে সংখ্যালঘু ভোটারদের প্রতিও সরাসরি বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরির আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে ‘বন্ধুত্ব’ করার সুযোগ রয়েছে। ৬ অক্টোবর উপনির্বাচনের দিনকে ‘বন্ধু দিবস’ এবং ৯ অক্টোবর ভোটগণনার দিনকে ‘গণনা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করে একসঙ্গে চলার আহ্বান জানান তিনি।

নন্দীগ্রামকে উন্নত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, আগামী দু’বছরের মধ্যে এলাকার এমন উন্নয়ন করা হবে যাতে স্থানীয় বাসিন্দারাই নন্দীগ্রামকে পুরসভা করার দাবি জানান। সংখ্যালঘুদেরও সেই উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এ দিনের সভায় হাসিরানি রথের ছেলে চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুর প্রসঙ্গও ফের তোলেন শুভেন্দু। চন্দ্রনাথ ছিলেন তাঁর সহযোগী এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের দু’দিন পর মধ্যমগ্রামে গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়। শুভেন্দু দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে সিবিআই। পাশাপাশি তিনি ‘ভাইপো গ্যাং’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, চন্দ্রনাথকে খুনের জন্য অর্থ দেওয়া হয়েছিল। তবে তাঁর বক্তব্যে করা এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ বা আদালতের সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই।

সভা থেকে রাজ্যের বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের পরে দলটি তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পবিত্র করকেও আক্রমণ করেন তিনি। পবিত্রের দলবদলের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

নন্দীগ্রামের মানুষের উদ্দেশে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন শুভেন্দু। ২০০৪, ২০০৯, ২০১৪, ২০১৬, ২০২১ এবং ২০২৬—নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে তাঁর পদ বা রাজনৈতিক দায়িত্ব বদলাতে পারে, কিন্তু নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বদলাবে না।

ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের প্রচারে শুভেন্দুর এ দিনের বক্তব্যে দুটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে—ভবানীপুরকে কেন ধরে রাখলেন তার ব্যাখ্যা এবং নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক-ব্যক্তিগত সম্পর্ক বজায় রাখার বার্তা। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর সরাসরি আহ্বানও প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন