জাপানে এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১৩তম দিনটা ভারতীয় ক্রীড়ার ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকল। ৪৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এশিয়ান গেমসে মহিলা হকিতে সোনা জিতল ভারত। ফাইনালে গত বারের চ্যাম্পিয়ন চিনকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেছে ভারতীয় দল। এই জয়ের সঙ্গে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের সরাসরি যোগ্যতাও অর্জন করেছে তারা।
গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে হওয়া ফাইনালে ভারতের হয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন লালরেমসিয়ামি। ম্যাচের ১০ মিনিটে তাঁর গোলই শেষ পর্যন্ত ভারতকে সোনা এনে দেয়। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, নিজের ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেমেই দলের হয়ে জয়সূচক গোল করলেন তিনি।
গোল পাওয়ার পর অবশ্য ম্যাচ সহজ ছিল না ভারতের জন্য। চিন বারবার আক্রমণে উঠে আসে। বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারতীয় রক্ষণকে যথেষ্ট চাপের মুখে পড়তে হয়। তবে গোলরক্ষক সবিতা পুনিয়ার নেতৃত্বে ভারতীয় রক্ষণ সেই চাপ সামলে নেয়। চিনের পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি স্ট্রোকও রুখে দেন সবিতা। শেষ পর্যন্ত এক গোলের ব্যবধান ধরে রেখে ইতিহাস তৈরি করে ভারত।
১৯৮২ সালের পর ফের এশিয়ান গেমসে সোনা
এশিয়ান গেমসে ভারতীয় মহিলা হকির শেষ সোনা এসেছিল ১৯৮২ সালে। এরপর ১৯৯৮ এবং ২০১৮ সালে ফাইনালে উঠেও সোনা অধরা থেকে যায়। ২০২৬ সালে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হল চিনকে হারিয়ে। ফলে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে ভারতীয় মহিলা হকি দলের এটি দ্বিতীয় সোনা।
এই সোনার গুরুত্ব শুধু পদকেই সীমাবদ্ধ নয়। এশিয়ান গেমসের হকি ইভেন্টের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভারতীয় মহিলা দল ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করেছে। ফলে পরবর্তী অলিম্পিকের প্রস্তুতিতেও এই জয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠল।
১৩তম দিনে ভারতের সোনার বন্যা
শুধু মহিলা হকিই নয়, ২ অক্টোবর ভারতের জন্য একাধিক সাফল্য নিয়ে এসেছে। এশিয়ান গেমসের ১৩তম দিনে ভারত মোট ছ’টি সোনা জিতেছে। মহিলা হকির পাশাপাশি বক্সিং, কুস্তি এবং তিরন্দাজিতেও এসেছে সোনা। ফলে এক দিনেই ভারতীয় পদক ভাণ্ডারে বড়সড় সংযোজন হয়েছে।
মহিলা হকির সোনার পাশাপাশি বক্সিংয়ে লভলিনা বরগোহাঁই, পরভিন হুডা এবং অঙ্কুশ পাংঘাল সোনা জেতেন। কুস্তিতে সুজিত কালকালও সোনা নিশ্চিত করেন। মহিলা রিকার্ভ দলও তিরন্দাজিতে সোনার পদক জেতে। সব মিলিয়ে শুক্রবার ভারতীয় ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্সে একের পর এক সাফল্য এসেছে।
এই সাফল্যের জেরে পদক তালিকাতেও ভারতের অবস্থান দ্রুত বদলেছে। ১৩তম দিনের শুরুতে ভারত ১০টি সোনা-সহ মোট ৬০টি পদক নিয়ে অষ্টম স্থানে ছিল। দিনের একাধিক সোনার পর ভারতীয় দলের পদকসংখ্যা ও র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। দিনের শেষের আপডেটে ভারত পঞ্চম স্থানে উঠে আসে এবং মোট পদকসংখ্যা ৭৯-তে পৌঁছয়—১৬টি সোনা, ২৭টি রুপো এবং ৩৬টি ব্রোঞ্জ।
ভারতের এই উত্থানের অন্যতম বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সোনার পদকের সংখ্যা বৃদ্ধি। ১৩তম দিনের ছ’টি সোনা শুধু পদক ভাণ্ডারই সমৃদ্ধ করেনি, সামগ্রিক তালিকাতেও ভারতকে আরও উপরে তুলে দিয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা, মহিলা হকির সাফল্য ভারতীয় দলের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে। ১৯৮২ সালের পর ফের এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে ভারতীয় মহিলা হকি দল একই সঙ্গে ইতিহাস লিখেছে এবং লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত করেছে। ১৩তম দিনের এই সাফল্য তাই ভারতের এশিয়ান গেমস অভিযানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে থাকল।



