দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনের আগে প্রচারে জোর দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। শুক্রবার নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাঁসিরানী রথের সমর্থনে প্রচারে গিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা এখনও এই প্রকল্পের টাকা পাননি, তাঁদেরও টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া মহেশ্বর বাজার এলাকায় আয়োজিত জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় এখনও পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ৭০ হাজার ৩০০ জন মহিলা টাকা পেয়েছেন। বাকি যোগ্য উপভোক্তাদেরও অর্থ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ভেরিফিকেশন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পথে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “একজনকেও বঞ্চিত করব না।” অর্থাৎ, সরকারের নির্ধারিত নিয়ম মেনে আবেদন করে যাঁরা যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন, তাঁদের অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনায় যোগ্য মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। নন্দীগ্রামে ইতিমধ্যেই বহু মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় টাকা পেয়েছেন বলে সভায় দাবি করেন তিনি।
যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের ক্ষেত্রে আবেদনপত্রের ভেরিফিকেশন এবং প্রসেস সম্পূর্ণ হওয়ার পর অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে যাঁরা আবেদন করেছেন কিন্তু এখনও টাকা পাননি, তাঁদের মধ্যে যোগ্য উপভোক্তাদের টাকা পাওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
রাজ্যের অন্যান্য প্রকল্পের প্রসঙ্গও এদিনের সভায় তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলির কাছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতি মাসে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা ধীরে ধীরে করা হবে।
নন্দীগ্রামের সভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অন্নপূর্ণা যোজনায় এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ১ কোটি ৫৮ লক্ষ এবং নন্দীগ্রামে ৭০ হাজার ৩০০ জন মহিলা টাকা পেয়েছেন। বাকি যোগ্য উপভোক্তাদেরও টাকা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে ভেরিফিকেশন এবং প্রসেসিংয়ের কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। তাই যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের বিচলিত না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এর আগে গত আগস্টে ভবানীপুরের একটি অনুষ্ঠানেও অন্নপূর্ণা যোজনার পোর্টাল নিয়ে কথা বলেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। যাঁরা নিজেরা পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন না, তাঁদের নাম নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে স্থানীয় স্তরে দলের কর্মীরা সাহায্য করবেন বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
সেই সময় তিনি বিধায়ক, মণ্ডল ও ওয়ার্ড স্তরের কর্মীদের পাশাপাশি মহিলা মোর্চার কর্মীদেরও পোর্টালে নাম নথিভুক্ত করার কাজে সহযোগিতা করার কথা বলেছিলেন।
নন্দীগ্রামের সভায় অন্নপূর্ণা যোজনার পাশাপাশি অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, বার্ধক্য, বিধবা ও দিব্যাঙ্গ ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী কিষান যোজনার ক্ষেত্রেও ৬ হাজার টাকার পরিবর্তে ৯ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের উপভোক্তাদের ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হলেই টাকা পাওয়ার কথাও জানান।
আবাস যোজনার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ৬০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে রাজ্যে ৫৪ লক্ষ এবং নন্দীগ্রামে আরও ১৩ হাজার ৭০০ জন আবাস যোজনার বাড়ি পেতে চলেছেন বলেও সভায় দাবি করেন তিনি।
উপনির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের সভা থেকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকল্পের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদন, যোগ্যতা ও ভেরিফিকেশন-সহ সরকারের নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়াই যে মূল বিষয়, তাঁর বক্তব্যে সেটিই উঠে এসেছে।



