মুম্বইয়ের মিঠি নদীর পলি নিষ্কাশন ঘিরে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের মামলায় গ্রেপ্তার হলেন বলিউড অভিনেতা ডিনো মোরিয়া। শুক্রবার বান্দ্রার বাসভবন থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে তাঁর নাম উঠে এসেছিল। ২০২৫ সালের জুন মাসে তাঁর বাড়িতে তল্লাশিও চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
গ্রেপ্তারের আগে ডিনো মোরিয়াকে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন মুম্বই পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)-এর তদন্তকারীরা। আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে বেশ কিছু তথ্য সামনে আসার পরই অভিনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এর আগে মুম্বই পুলিশের EOW ডিনো মোরিয়াকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। তদন্তে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার দুর্নীতির হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। যে সংস্থার মাধ্যমে ওই টাকা লেনদেন হয়েছিল, সেই সংস্থার ডিরেক্টর ছিলেন ডিনোর ভাই সান্তিনো মোরিয়া।
তদন্তকারীদের নজরে আসে কেতন কদম নামে এক মূল অভিযুক্তের সঙ্গে ডিনো মোরিয়া এবং তাঁর ভাই সান্তিনো মোরিয়ার আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির সঙ্গে ডিনো ও তাঁর ভাইয়ের একাধিকবার ফোনে কথোপকথনের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে আসে। কললিস্ট খতিয়ে দেখার পরই অভিনেতার ভূমিকা নিয়ে তদন্ত আরও জোরদার হয়।
মিঠি নদীর পলি নিষ্কাশন সংক্রান্ত আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে ২০২৫ সালের জুন মাসে ডিনো মোরিয়ার বান্দ্রার বাড়িতে দীর্ঘ সময় ধরে তল্লাশি চালিয়েছিল ED। প্রায় ১৪ ঘণ্টা ধরে চলেছিল সেই অভিযান।
শুধু মুম্বইয়ের বাসভবনেই নয়, কোচিতে থাকা বাড়ি-সহ মোট ১৪টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল বলে জানা যায়। ডিনো মোরিয়ার ভাই এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত মিডলম্যানদের বাড়িতেও তল্লাশি হয়েছিল।
সেই সময় থেকেই আর্থিক লেনদেন এবং অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে ছিল। পরে EOW-ও এই মামলায় ডিনো মোরিয়াকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করে।
মুম্বইয়ের মিঠি নদী শহরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বর্ষার সময়ে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নদীর পলি ও আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করার জন্য মুম্বই প্রশাসনের তরফে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।
নদীর পলি নিষ্কাশন এবং সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পকে ঘিরেই বড়সড় আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এই প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি তহবিলের কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেই হিসাবও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মিঠি নদীর পলি নিষ্কাশন সংক্রান্ত প্রায় ৬৫ কোটি টাকার আর্থিক কেলেঙ্কারির তদন্তে শুক্রবার মুম্বই ও কেরলের ১৫টি জায়গায় অভিযান চালায় ED। এই তদন্তের আওতায় ডিনো মোরিয়া ছাড়াও বৃহন্মুম্বই পৌরসভার সহকারী ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত রামুগাড়ে এবং আরও কয়েকজন ঠিকাদার রয়েছেন।
তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, মিঠি নদী পরিষ্কারের কাজে নিযুক্ত কর্মীরা ভুয়ো লগবুক এবং স্লিপ জমা দিয়েছিলেন। এর পাশাপাশি ভাড়া করা যন্ত্রপাতির জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত বিল দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
এই আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করতে গিয়েই ডিনো মোরিয়ার সঙ্গে মামলার অন্যান্য অভিযুক্তদের যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসে। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার বান্দ্রার বাড়ি থেকে অভিনেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
মিঠি নদীর পলি নিষ্কাশন প্রকল্পে সরকারি অর্থের ব্যবহার, ঠিকাদারদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্ত ইতিমধ্যেই জোরদার হয়েছে। ডিনো মোরিয়ার গ্রেপ্তার সেই তদন্তেই নতুন মাত্রা যোগ করল।



