‘ক্ষমার অযোগ্য কথা’, অনন্ত মহারাজকে কড়া বার্তা শুভেন্দুর, ৬ এফআইআর ঘিরে বাড়ল চাপ

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর দুঃখপ্রকাশ অনন্ত মহারাজের। তবু ৬টি এফআইআর চলবে বলে জানিয়ে তাঁকে ‘ক্ষমার অযোগ্য কথা’র জন্য কড়া বার্তা শুভেন্দুর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু (Subhas Chandra Bose) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে এবার আরও চাপে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ (Ananta Maharaj)। বিতর্কিত মন্তব্যের পর তাঁর বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করেছে রাজ্য সরকার, দায়ের হয়েছে মোট ছ’টি এফআইআর। পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তা দিয়ে দুঃখপ্রকাশও করেছেন অনন্ত। কিন্তু তাতেই আইনি জটিলতা শেষ হচ্ছে না—সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর মন্তব্য, অনন্ত মহারাজ ‘ক্ষমার অযোগ্য কথা’ বলেছেন।

অনন্ত মহারাজের দুঃখপ্রকাশকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখার বার্তা অবশ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অনন্ত মহারাজ ভিডিও পোস্ট করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ করবেন না বলেও জানিয়েছেন। ফলে তাঁর এই অবস্থানকে ইতিবাচক ভাবে দেখা উচিত।

তবে একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া চলবে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর হয়েছে। অর্থাৎ প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেও অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হওয়া আইনি পদক্ষেপ আপাতত থামছে না।

নেতাজিকে নিয়ে মন্তব্যের পর রাজ্য সরকারের তরফে অনন্ত মহারাজকে দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহার করা হয়। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। সব মিলিয়ে ছ’টি এফআইআর হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

শুধু অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিতর্কিত বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ১৮২টি পোস্ট ইতিমধ্যেই ডিলিট করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ফেসবুক অ্যাকাউন্টও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নেতাজি সম্পর্কে অনন্ত মহারাজের মন্তব্য ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। রাজ্য সরকারও দ্রুত কড়া অবস্থান নেয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কোনও ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না—এই বার্তাই দিতে চেয়েছে সরকার।

এর পরেই অনন্ত মহারাজ প্রথমে নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি নেতাজিকে অপমান করেননি এবং ইতিহাসের কিছু তথ্যই তুলে ধরেছিলেন। পরে অবশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বার্তায় নিজের মন্তব্যে কেউ মানসিক ভাবে আঘাত পেয়ে থাকলে আন্তরিক ভাবে দুঃখিত বলে জানান তিনি।

সেই দুঃখপ্রকাশকে স্বাগত জানালেও শুভেন্দুর বক্তব্যে স্পষ্ট, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বা নৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। এফআইআর দায়ের হওয়ায় আইনি প্রক্রিয়াও এগোবে। ফলে অনন্ত মহারাজের প্রকাশ্য ক্ষমাপ্রার্থনার পরও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে অনন্ত মহারাজের দুঃখপ্রকাশকে ইতিবাচক হিসেবে দেখার আহ্বান, অন্যদিকে তাঁর মন্তব্যকে ‘ক্ষমার অযোগ্য’ বলে কঠোর সমালোচনা—দুই সুরই রয়েছে। ফলে এই বিতর্কে সরকার আপাতত রাজনৈতিক উত্তাপ কমানোর পাশাপাশি আইনের নিজস্ব পথে চলার বার্তাই দিতে চাইছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন