দোলের আগেই কি থেমে যাচ্ছে জল্পনা, আর ঠিক উৎসবের পরেই প্রকাশ পেতে চলেছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট? নির্বাচন কমিশন সূত্রে এমনটাই ইঙ্গিত মিলছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহে কমিশনের ফুল বেঞ্চের বাংলা সফরের পরেই রাজ্যের ভোটসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্রের দাবি, আগামী ১ ও ২ মার্চ রাজ্যে আসছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ওই সফরেই রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রাপ্যতা, ভোটার তালিকার হালনাগাদ—সব দিক খতিয়ে দেখে নির্বাচন সদন থেকেই বাংলার ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের বিষয়ে সবুজ সংকেত মিলতে পারে। কমিশনের অন্দরের বার্তা, নেড়া পোড়া বা হোলিকা দহনের আগে কোনও বড় ঘোষণা করা হবে না।
এর আগে ঠিক হয়েছিল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হলেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন থাকলেও তা পিছিয়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই নির্ঘণ্ট ঘোষণার দিন নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। কমিশন সূত্রে খবর, সংশোধন প্রক্রিয়া পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় ভোটের সময়সূচি প্রকাশে বিলম্ব হয়েছে।
এই আবহে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক স্বশাসিত সংস্থা হলেও তারা বিজেপির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবস্থানের সঙ্গে সাযুজ্য রেখেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। গেরুয়া শিবিরের বিশ্বাস অনুযায়ী, হোলিকা দহনের আগে কোনও ‘শুভ কাজ’ করা হয় না—এই বিশ্বাস থেকেই বাংলা-সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট একসঙ্গে দোলের পরেই প্রকাশ করা হতে পারে বলে তাদের ধারণা।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ু, কেরল ও পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সব রাজ্যের ভোটের নির্ঘণ্ট একসঙ্গেই ঘোষণা করা হবে। ফলে বাংলার ক্ষেত্রে একক কোনও ঘোষণা নয়, জাতীয় স্তরের সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবেই নির্ঘণ্ট প্রকাশের সম্ভাবনা বেশি।
এর মধ্যেই জল্পনা ছড়িয়েছে বাংলায় কত দফায় ভোট হবে তা নিয়ে। সূত্রের দাবি, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে—যথেষ্ট লোকবল থাকায় এক দফায় ভোট করতেও রাজ্য প্রস্তুত। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মিললে ভোট হিংসা কমবে বলেও মত প্রশাসনের একাংশের।
তবে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অন্দরে ভাবনা ভিন্ন। কমিশন সূত্রে খবর, তারা বাংলায় অন্তত তিন দফায় ভোট করাতে আগ্রহী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রাপ্যতা, বাহিনী মোতায়েনের লজিস্টিক ও অতীত ভোট-হিংসার অভিজ্ঞতা—সব দিক বিবেচনায় রেখেই তিন দফার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে এলে শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটা হবে, তা তখনই স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।



