স্ক্রিনিং কমিটির বিপক্ষে ‘নোটা’ ভোট দেবের, বাংলা ছবির মুক্তি নিয়ে জটিলতা আরও ঘনীভূত?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবিতে যে স্ক্রিনিং কমিটি গঠিত হয়েছিল, সেই কমিটিকেই ঘিরে এবার প্রকাশ্য বিভাজনের ছবি। শনিবার ইম্পার অফিসে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্ক্রিনিং কমিটির পক্ষে ভোটাভুটি চলাকালীন ফোনে ‘নোটা’ দিয়ে কার্যত বিরোধিতার বার্তা দিলেন অভিনেতা দেব। ফলে বাংলা ছবির মুক্তি, উৎসবকালীন রিলিজ ও ইন্ডাস্ট্রির ঐক্য—সব মিলিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হল বলে মনে করছে টালিগঞ্জ।

বাংলা সিনেমা ক্রমশ কোণঠাসা—এই অভিযোগ নতুন নয়। মেগাবাজেটের হিন্দি ও দক্ষিণী ছবির দাপটে প্রাইম টাইমে নিজভূমেই হল পাচ্ছে না বহু বাংলা ছবি। তার উপর একসঙ্গে একাধিক ছবি মুক্তি পাওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছেন প্রযোজকেরা। এই পরিস্থিতি সামাল দিতেই গত আগস্টে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে বিস্তর আলোচনার পর গঠিত হয় একটি স্ক্রিনিং কমিটি।

এই কমিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল—বাংলা ছবির মুক্তি পরিকল্পিত করা, যাতে প্রতিটি ছবি বক্স অফিসে ন্যূনতম সুযোগ পায়। সেই সূত্রেই IMPPA-র তরফে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, বছরে নির্দিষ্ট ছ’টি উৎসবের মধ্যে যে কোনও দু’টি উৎসব বেছে নিয়ে কোনও প্রযোজনা সংস্থা সর্বাধিক দু’টি ছবি মুক্তি দিতে পারবে। বছরের অন্য সময়ে মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলি এই নিয়মের আওতায় পড়বে না। অর্থাৎ, উৎসবকেন্দ্রিক রিলিজে নিয়ন্ত্রণ আনাই ছিল মূল লক্ষ্য।

কিন্তু স্ক্রিনিং কমিটি গঠনের পর থেকেই মতানৈক্য প্রকাশ্যে আসে। কমিটি আদৌ থাকবে কি না, সেই প্রশ্নেই শনিবার ২৭ ডিসেম্বর ইম্পা অফিসে ডাকা হয় বৈঠক। সূত্রের খবর, বৈঠকের মাঝেই পিয়া সেনগুপ্ত ফোন করেন দেবকে। কারণ, স্ক্রিনিং কমিটি মানা হবে কি না, তা নিয়ে সেদিন সরাসরি ভোটাভুটি হয়।

সেই ভোটে দেব ফোনে ‘নোটা’ দেন। কমিটির সদস্যদের ব্যাখ্যায়, এই ‘নোটা’ মানে স্ক্রিনিং কমিটির পক্ষে সম্মতি নয়। বৈঠকে উপস্থিত ১২ জন সদস্য কমিটির পক্ষে ভোট দেন। ফলে ফল দাঁড়ায় ১২-১—স্ক্রিনিং কমিটির পক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়।

এই ঘটনার পর টালিগঞ্জে প্রশ্ন উঠছে—তবে কি স্ক্রিনিং কমিটি নিয়ে দেবের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় অংশের দূরত্ব থেকেই গেল? কেউ কেউ মনে করছেন, এই মতবিরোধ ভবিষ্যতে বাংলা ছবির মুক্তি পরিকল্পনায় আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে। আবার অন্য মহলের মতে, দেবের ‘নোটা’ আসলে আরও আলোচনার দরজা খুলে দিল।

সব মিলিয়ে, বাংলা সিনেমার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা এখন নিজেই বিতর্কের কেন্দ্রে। স্ক্রিনিং কমিটি কি ইন্ডাস্ট্রিকে ঐক্যবদ্ধ করবে, না কি বিভাজন আরও বাড়াবে—তার উত্তর দেবে আগামী দিনই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন