নজরবন্দি ব্যুরো: আজ নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত নিল সমস্ত বিরোধী দল। সিপিএম, বিজেপি, কংগ্রেস কোনও দলের নেতারাই উপস্থিত হলেন না এই বৈঠকে। সেই প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত, “বৈঠকে সিপিএম-কংগ্রেস যোগ না দেওয়াটা দুঃখজনক।”
প্রসঙ্গত, ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ কবে পালিত হবে তা স্থির করতেই মঙ্গলবার নবান্নে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগে ২০ শে জুন ‘পশ্চিবমবঙ্গ দিবস’ পালন করেছিল কেন্দ্র সরকার। বিজেপির সমর্থন ছিল তাতে। রাজভবনে পালিতও হয় সেই অনুষ্ঠান। যদিও আপত্তি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি দাবি করেছিলেন, ২০ শে জুন পশ্চিমবঙ্গের প্রতিষ্ঠা দিবস হতে পারে না কারণ এই দিনের কোনও বিশেষ ইতিহাস নেই। সেই কারণে, মুখ্যমন্ত্রী ১ লা বৈশাখ দিনটিকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন। যদিও তিনি তা এককভাবে নিতে চাননি। সমস্ত দলের নেতাদের মতামত নেবার জন্যই ডাকেন একটি বৈঠক।

আজকের এই বৈঠকে গরহাজির ছিল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। গরহাজির থাকার কারণ চিঠি দিয়ে ব্যাখ্যাও করেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তাঁর মতে, এই সর্বদলীয় বৈঠকে আসলে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছেন মমতা! অন্যদিকে, বামেদের তরফেও চিঠি দিয়ে বলা হয়, “মুখ্যমন্ত্রীর পশ্চিমবঙ্গ দিবস পাওলন নিয়ে এত তৎপরতা কেন?”

সর্বদলীয় বৈঠক বয়কট বিরোধীদের, সিপিএম-কংগ্রেস যোগ না দেওয়ায় দুঃখিত মুখ্যমন্ত্রী?
এবার সব কথার উত্তর দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বললেন, ‘আমি ইন্ডিয়া জোটে আছি এবং সব ব্যাপারে যাই। আমি কিন্তু কারও বিরুদ্ধে একটা কথাও বলি না।কংগ্রেস ও সিপিএমের বৈঠকে যোগ না দেওয়াটা দুঃখজনক।“ একই সঙ্গে সিপিএমের করা প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “অতি উৎসাহ কেন? অতি উৎসাহটা এই কারণে, সময়ে যদি আপনি প্রতিবাদটা না করেন, তাহলে কিন্তু এই বেআইনি জিনিসটাই আইনত হয়ে যাব। এটাই স্থায়ী হয়ে যাবে। ২০ জুন নাকি বাংলার প্রতিষ্ঠাদিবস! আমি তো জীবনে শুনিনি। আপনারা কেউ শুনে থাকলে বলবেন। আমরা চাইছি, এই দিনটা হবে না। আমরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে প্রতিবাদপত্র লিখেছি।“




