নজরবন্দি ব্যুরো: মঙ্গলবার ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ নিয়ে আলোচনার জন্য নবান্নে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে গরহাজির থাকার সিদ্ধান্তই নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। গেলেন না বিজেপির অন্য কোনও নেতাও। বিজেপির পাশাপাশি সিপিএম-কংগ্রেসও এই বৈঠকে যোগ দেয়নি। মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠিতে না যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন সুকান্ত।
আরও পড়ুন: নিজের ‘দত্তক’ নেওয়া গ্রামে হেরেছেন? অভিষেককে ‘পেশাদার মিথ্যেবাদী’ ঘোষণা সুকান্তর
মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিতে সুকান্ত লিখেছেন, “আপনার চিঠি পেয়েছি। তবে সেখানে আপনাদের যা বক্তব্য, তাতে স্পষ্ট ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ সম্পর্কে খোলা মন নিয়ে আপনি আলোচনার জন্য সর্বদলীয় বৈঠক ডাকেননি। আপনার পূর্বাগ্রহের নিহিত এবং পূর্বাশ্রিত কিছু পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সর্বদলীয় বৈঠকটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছেন। এমতাবস্থায় আপনার আগেই নিয়ে ফেলা সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিতে আমি বা আমার দলের কোনও প্রতিনিধি সর্বদলীয় বৈঠকে যেতে অপারগ। তাই বিজেপি এই বৈঠকে যোগ দেবে না।“

পাশাপাশি, বিজেপি রাজ্য সভাপতি আরও লেখেন, তবুও বিজেপি মনে করে বাঙালি হিন্দুর হোমল্যান্ড হল পশ্চিমবঙ্গ, যার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ২০ জুন ১৯৪৭। যেদিন বঙ্গীয় আইনসভা এ সম্পর্কে ভোটাভুটিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। বাঙালি হিন্দুর ন্যায্য দাবি নিয়ে আপনার মনের বন্ধ দরজা খুলে দিতে এ সম্পর্কিত একটি ‘বিজেপির অবস্থান’ সংক্রান্ত বক্তব্য আপনাকে পাঠালাম।“

প্রসঙ্গত, বিগত ২০ শে জুন পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করে বিজেপি। রাজভবনে আয়োজন করা হয় একটি অনুষ্ঠানের। বিজেপির এই উদযাপনের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, “২০ শে জুন পশ্চিমবঙ্গ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বলে আমরা কিছু পড়িনি বা শুনিনি!”
মুখ্যমন্ত্রীর ‘ডাক’ ফেরালেন সুকান্ত, সর্বদলীয় বৈঠকে গরহাজির বিজেপি, চিঠিতে বয়কটের ‘কারণ’ ব্যাখ্যা সাংসদের
বরং, ১ লা বৈশাখকে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। তবে, এই সিদ্ধান্ত এককভাবে নিতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। আলোচনার জন্য ডাকা হয় একটি সর্বদলীয় বৈঠক। কিন্তু, আজ দেখা গেল, কোনও বিরোধী দলের নেতাই সেই বৈঠকে উপস্থিত হলেন না। আর বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার তো রীতিমতো ক্ষোভ জানিয়ে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে।




