নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২২ অগস্ট থেকে নিখোঁজ অতনু দে এবং অভিষেক নস্কর নামের দুই ছাত্র। দু’জনেই বাগুইআটির হিন্দু বিদ্যাপীঠের দশম শ্রেণির ছাত্র। সম্পর্কে তারা তুতো ভাই। ২৪ অগস্ট বাগুইআটি থানায় অভিযোগ করে পরিবার। তার পরেই তদন্ত শুরু করে পুলিস। প্রায় ১১ দিন পর বসিরহাটের মর্গে পাওয়া গেল দুই ছাত্রের নিথর লাশ।
আরও পড়ুনঃ আজও হজিরা এড়িয়ে গেলেন তৃণমূল বিধায়ক, বিরাট পদক্ষেপ নিতে পারে সিবিআই
গোটা ঘটনার আংশিক কিনারা করল বিধাননগর পুলিস। পুলিস সূত্রে খবর, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ীই খুন করা হয়েছে অতনু ও অভিষেককে। বেশ কিছুদিন আগেই সেই প্ল্যান করা হয়। ২২ আগস্ট নিখোঁজ হওয়া দুই পড়ুয়াকে বাসন্তী হাইওয়েতে খুন করা হয়। দু’সপ্তাহ ধরে বসিরহাট থানার মর্গে পড়েছিল দেহ। অথচ জানতই না পুলিশ। এদিকে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে মেসেজ করা হচ্ছিল পরিবারের সদস্যদের।

পরে মঙ্গলবার উদ্ধার হয় দেহ। সেই সময় জানা যায়, ১৪ দিন ধরে বসিরহাটের মর্গে দেহ পড়ে থাকলেও তা জানতে পারেনি পুলিশ। এই খুনের মূল অভিযুক্ত সত্যেন্দ্র চৌধুরি। যে এখনও পালাতক। তবে খুনের আগে খুনিরা রেইকি করে। টার্গেট ছিল অতনু। কিন্তু দুর্ভাগ্য বসত সেই দিন অতনুর সাথে ছিল তার তুত ভাই অভিষেক। ফলে তাকেও খুন হতে হল।

যে গাড়িতে অতনু ও অভিষেককে অপরহণ করে খুন করা হয় সেটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিস। ধৃতদের মধ্যে ছিল অভিজিত্ বোস, তার বাড়ি হাওড়ায়। বাকিরা শামিম আলি, শাহিন আলি, দিব্যেন্দু দাস। এই ঘটনায় লেগেছে রাজনীতির রং। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। অভিযোগ করা হয়েছে পুলিসের গাফিলতির। আর সেই কারণে গোটা ঘটনার রিপোর্ট তলব করেছেন ডিজি মনোজ মালব্য।

বাগুইআটি খুনে টার্গেট ছিল অতনু, অভিষেক সে দিন সঙ্গে থাকায় মরতে হল তাকেও!
এর পাশাপাশি বাগুইআটি থানার আইসি কল্লোল ঘোষকে এই মামলার সমস্ত দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে বলেই খবর।এদিকে বুধবার সকাল থেকে বাগুইআটি থানার সামনে বিক্ষোভে বিজেপির মহিলা মোর্চা ও সিপিএমের নেতা-কর্মীরা। এদিনই বাগুইআটি আসবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অপর দিকে সিপিআইএম দলের তরফে আলাদা ভাবে থানার সামনে বিক্ষপ দেখায়। সব মিলিয়ে এই দুই কিশোরের মৃত্যু নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।



