নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১৫০ দিনে পড়ল নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক পদপ্রার্থীদের আন্দোলন! সল্টলেকে করুণাময়ী বাসস্ট্যান্ডের পাশে সেন্ট্রাল পার্কের ৫ নম্বর গেটের ধারে নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক পদপ্রার্থীদের আন্দোলন চলছে আজ ১৫০ দিন ধরে। দিল্লিতে কৃষক আন্দোলনের পাশাপাশি আমাদের রাজ্যে হবু শিক্ষকদের আন্দোলন ইতিহাস সৃষ্টি করলো আজ। তবে এই ইতিহাস হবু শিক্ষকদের এক করুন যন্ত্রণার ইতিহাস। ৩০ শে জানুয়ারি ২০২১ থেকে যে লাগাতার অবস্থান-বিক্ষোভ ও রিলে অনশন কর্মসূচি নিয়েছে নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর অপেক্ষমান শিক্ষক পদপ্রার্থীরা তা কঠিন ঠান্ডা, প্রবল গ্রীষ্মের দাবদাহ, ইয়াসের মত ঝড় ও প্রবল বর্ষণ, এমনকি মহামারী পরিস্থিতি কোন কিছুই এই আন্দোলনকে দমাতে পারেনি।
আরও পড়ুনঃ হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে খাদ্যদ্রব্য, গড় হারিয়েও বহরমপুরের পাশে দাঁড়িয়ে অধীর


আন্দোলনকারী অন্যতম নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন, পলাশ মন্ডল, বাপন পাত্র, ইলিয়াস বিশ্বাস, রুপম সাহা রা বলেন যে, “প্রবল বৃষ্টির মধ্যে দুহাত দিয়ে মাথার উপর একখানা ত্রিপল ধরে রেখে আমরা দিন-রাত অতিবাহিত করি। বিশেষ করে রাতের বেলা যখন বৃষ্টি আসে তখন কাঁধে ব্যাগ নিয়ে আমাদের সারা রাত দাঁড়িয়ে থাকতে হয় কারণ ফুটপাত তখন জলের তলায়। এই অবস্থাতেও আমরা এই আন্দোলনকে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এবং যতদিন পর্যন্ত না আমাদের দাবি পূরণ হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”
আবু নাসের ঘরামি,সুখেন সরকার, সাধন দাস, ইকবাল হাসান মল্লিক প্রভৃতি আন্দোলনকারীদের বক্তব্য হল ২০১৯ সালের মার্চ মাসে কলকাতার প্রেসক্লাবের সামনে তারা যে ২৯ দিন ব্যাপী অনশন করেছিলেন সেই অনশনের ২৯ তম দিনে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৎকালীন শিক্ষা মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সেখানে এসে প্রতিশ্রুতি দেন যে সমস্ত অপেক্ষমান শিক্ষক পদপ্রার্থীদের লোকসভা ভোটের পর তিনি নিয়োগ দেবেন। কিন্তু মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই প্রতিশ্রুতি আজও পূরণ হয়নি।
তাই আমরা অর্থাৎ নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর অপেক্ষমান শিক্ষক পদপ্রার্থীরা মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি কে আরও একবার তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য ২০২১ সালের ৩০ শে জানুয়ারি থেকে আজ পর্যন্ত লাগাতার ১৫০ দিন অবস্থান বিক্ষোভ ও রিলে অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কের ৫ নম্বর গেটের পাশে। আন্দোলনকারীদের আশা মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি মত সকল নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর অপেক্ষমান শিক্ষক পদপ্রার্থীদের নিয়োগ করবেন।


তৃণা হালদার, পল্লবী নস্কর, শম্পা বর্মন, প্রথমা মিত্র, শবনম, লুবানা, দীপিকা প্রমূখ মহিলা আন্দোলনকারীদের কষ্ট আরও ভয়াবহ। অনেকেই ছোট সন্তান, পরিবার-পরিজনকে দূরে রেখে ফুটপাতে দিন কাটাচ্ছেন। তাদের একটি আশা মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিশ্রুতি রাখবেন। আন্দোলনকারীদের মধ্যে মহিলাদের অবস্থা খুবই দুর্বিষহ কারণ রাত নটার পর থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত পৌরসভার যে টয়লেট তারা ব্যবহার করেন সেটি বন্ধ হয়ে যায়। তাই ঝড় জল বৃষ্টির মধ্যে রাতে তারা টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন না।
তাদের একটি আশা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৯ সালের মার্চ মাসে লোকসভা ভোটের আগে কলকাতার প্রেসক্লাবের সামনে নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর অপেক্ষমান শিক্ষক পদপ্রার্থীদের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন সেই প্রতিশ্রুতি মতো সমস্ত অপেক্ষমান শিক্ষক পদপ্রার্থীদের জব নিশ্চিত করবেন। এই আশাতেই মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি তাঁর কাছে আরেকবার পৌঁছে দেওয়ার জন্যই ২০২১ সালের ৩০ শে জানুয়ারি থেকে নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির অপেক্ষমান শিক্ষক পদপ্রার্থীরা দীর্ঘ ১৫০ দিন ব্যাপী অবস্থান বিক্ষোভ ও রিলে অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৫০ দিনে পড়ল নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষক পদপ্রার্থীদের আন্দোলন! এই আন্দোলনের অন্যতম নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন ও পলাশ মন্ডল এর কথা যতদিন পর্যন্ত না মমতাময়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিশ্রুতি মত নবম দশম ও একাদশ দ্বাদশ শ্রেণীর সকল অপেক্ষমান প্রার্থীদের নিয়োগ করছেন ততদিন পর্যন্ত এই আন্দোলন তাঁরা জারি রাখবেন এবং প্রয়োজনে তাঁরা আমরণ অনশন ও স্বেচ্ছামৃত্যুর আবেদন জানাবেন।







