যুবভারতীতে ক্ষতি প্রায় দু’কোটি, এবার ইডেনে টি-২০ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা, কী হবে এই বাংলার?

মেসি ইভেন্টে ভাঙচুরের জেরে যুবভারতী স্টেডিয়ামের ব্যাপক ক্ষতি। আইসিসির পর্যবেক্ষণ রিপোর্টের উপর নির্ভর করছে ইডেনে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ভবিষ্যৎ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে সাম্প্রতিক ভাঙচুরের রেশ এবার পৌঁছতে পারে ইডেন গার্ডেন্স পর্যন্ত। শনিবার মেসি ইভেন্টে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে—ফেব্রুয়ারিতে ইডেনে নির্ধারিত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল কি হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে?

যুবভারতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার ভিডিও ও ছবি ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা আইসিসি বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেই বোর্ড সূত্রে খবর। অতীতে বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে আরসিবির বিজয়োৎসবে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর সেই ভেন্যুকে এখনও কালো তালিকাভুক্ত রাখা হয়েছে—এই নজিরও নতুন করে আলোচনা বাড়াচ্ছে।

ইডেনে সেমিফাইনাল আয়োজনের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে আইসিসির পরিদর্শক দলের রিপোর্টের উপর। তবে মেসি সফরের সময় কলকাতায় যে ভাবে ক্রাউড ম্যানেজমেন্ট ভেঙে পড়েছিল, তা বড় নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বোর্ডের একাংশ।

যুবভারতীতে ক্ষতি প্রায় দু’কোটি, এবার ইডেনে টি-২০ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা, কী হবে এই বাংলার?
যুবভারতীতে ক্ষতি প্রায় দু’কোটি

মুম্বই থেকে এক বোর্ড কর্তা জানান, “বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যুবভারতীতে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা উদ্বেগের। মাঠের ভিতরে এত লোক কীভাবে ঢুকল—এই প্রশ্ন অবজার্ভার কমিটি তুলতেই পারে।”

এই অনিশ্চয়তার পাশাপাশি সামনে এসেছে যুবভারতী স্টেডিয়ামের ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র। দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়ামে কর্মরত আধিকারিকদের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষতির অঙ্ক কমপক্ষে দু’কোটি টাকা, যা আরও বাড়তে পারে। গ্যালারির অসংখ্য চেয়ার ভেঙে গেছে, টানেলের ছাউনি, ডাগআউটের বেঞ্চ, এমনকি গ্রাউন্ড ফ্লোরের ভিআইপি বক্সগুলিও কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে চলতি মরশুমে যুবভারতীতে আইএসএল ম্যাচ আয়োজন করা যাবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। পুনর্নির্মাণ কবে শুরু হবে, তা এখনও অনিশ্চিত। সরকারি স্তরে বার্ষিক বাজেট ও অর্থ দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া এত বড় অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করা সহজ নয়।

যুবভারতীতে ক্ষতি প্রায় দু’কোটি, এবার ইডেনে টি-২০ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা, কী হবে এই বাংলার?
ইডেনে টি-২০ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা

মোহনবাগান এসজির কর্তা আশিস সরকার, যিনি দীর্ঘদিন স্টেডিয়াম ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত, বলেন, “টার্ফে বড় ক্ষতি হয়নি, সেটা এক সপ্তাহের মধ্যেই ঠিক করা সম্ভব। কিন্তু গ্যালারি ও অন্যান্য কাঠামোর ক্ষতি সারাতে জরুরি ভিত্তিতে কাজ এবং বিপুল অর্থ প্রয়োজন।”

সব মিলিয়ে, যুবভারতীর ক্ষত শুধু একটি স্টেডিয়ামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। তার প্রভাব পড়তে পারে শহরের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ভাবমূর্তি ও ইডেনে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো মর্যাদাপূর্ণ ম্যাচ আয়োজনের উপরও।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত