ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনার জেরে টানা দু’দিন অশান্ত বেলডাঙা। রাস্তা ও রেল অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগে কার্যত বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছিল মুর্শিদাবাদের এই এলাকা। পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতেই রবিবার নিহত পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিনের বাড়িতে পৌঁছোলেন বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান। নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অশান্তির নেপথ্যে ‘ভুল বোঝানো ও উসকানি’র অভিযোগ তুললেন তিনি।
রবিবার সকালে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক হাসানুজ্জামান ও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইউসুফ পাঠান যান মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা-য় নিহত আলাউদ্দিনের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যরা সাংসদকে কাছে পেয়ে তাঁদের দুঃখ-দুর্দশার কথা খুলে বলেন। এতদিন ধরে উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যে কেন সাংসদকে দেখা যায়নি—এই প্রশ্নও উঠেছিল এলাকায়।
সেই প্রসঙ্গে ইউসুফ পাঠানের বক্তব্য, “আমি এখানেই ছিলাম। তৃণমূল স্তরে এখানকার মানুষের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। আমি তাঁদের জন্যই কাজ করি। মানুষজন ও সংবাদমাধ্যমকে ভুল বোঝানো হয়েছে। এখনও আমরা এই পরিবারের পাশে আছি এবং থাকব।”
উল্লেখ্য, বেলডাঙা যখন অশান্ত, তখন তার মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে বহরমপুরে শনিবার রোড শো করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি বেলডাঙা অশান্তির নেপথ্যে সরাসরি বিজেপির উসকানিকে দায়ী করেন। নাম না করে নিশানা করেন দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকেও। অভিষেক তখনই জানান, ইউসুফ পাঠান বারবার নিহত শ্রমিকের বাড়িতে যেতে চাইলেও পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে তাঁকেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
রবিবার বেলা গড়াতেই সেই সফর সম্পন্ন করেন ইউসুফ পাঠান। সুজাপুরের তাতলাপাড়ায় আলাউদ্দিনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল সাংসদের স্পষ্ট বার্তা, “যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। দেশের পরিযায়ী শ্রমিকরা সবাই দেশের নাগরিক। রুটিরুজির জন্য অন্য রাজ্যে যেতে হয় বলেই তাঁদের উপর এই অত্যাচার চলতে পারে না। আমি নিজে একাধিক বার কেন্দ্রকে চিঠি লিখে এই বিষয়ে সতর্ক করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “এই মৃত্যুর পর এখানে ভুল বোঝানো আর উসকানি সমানে চলেছে। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত। আমি বরাবর এখানকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি।” ইউসুফ জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিহতের পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। “পরিবারের একজনকে সরকারি চাকরি, সন্তানদের শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সবরকম সহায়তা দেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
সব মিলিয়ে বেলডাঙার অশান্তির আবহে নিহত পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়িতে ইউসুফ পাঠানের এই সফর রাজনৈতিক বার্তার পাশাপাশি এলাকায় শান্তি ফেরানোর চেষ্টারই ইঙ্গিত দিচ্ছে—এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



