খুন নয়, আত্মহত্যা করেছিলেন বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ, তথ্য দিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ

ঝাড়খণ্ড পুলিশের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে স্পষ্ট, বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ খুন হননি। গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি—শরীরে আঘাতের চিহ্নও নেই।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে খুন হননি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখ—ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সামনে এনে শুক্রবার চাঞ্চল্যকর দাবি করল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, গণপিটুনি বা হামলার কোনও প্রমাণ নেই; গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন আলাউদ্দিন।

মৃত্যুর ঘটনার পর থেকেই আলাউদ্দিনের পরিবার অভিযোগ করেছিল, তাঁকে পিটিয়ে খুন করে পরে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই গত শুক্রবার থেকে টানা দু’দিন অশান্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা-সহ মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকা। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর, পথ অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়।

ঝাড়খণ্ডের পলমু জেলার বিশ্রামপুর থানা এলাকায় একটি ঘর ভাড়া করে থাকতেন আলাউদ্দিন শেখ। পুরনো বাসনের বদলে নতুন বাসন ফেরি করেই তাঁর রোজগার চলত। গত বৃহস্পতিবার সেই ভাড়া ঘর থেকেই ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপরই এলাকায় গুজব ছড়ায়—ভিন্‌রাজ্যে বাঙালি শ্রমিককে মারধর করা হয়েছে।

এদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে ফোন করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সূত্রের দাবি, দ্রুত তদন্ত ও কার্যকরী পদক্ষেপের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু শুক্রবার ঝাড়খণ্ড পুলিশ যে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেছে, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়েছে জীবিত অবস্থায় গলায় ফাঁস লাগার কারণে। রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি, দেহ উদ্ধারের আগে ঘরের দরজাও ভিতর থেকে বন্ধ ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

মুর্শিদাবাদ জেলার পুলিশ সুপার সানি রাজ জানান, “আমাদের প্রতিনিধি দল ঝাড়খণ্ডে গিয়ে তদন্তকারী আধিকারিক ও নিহতের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। প্রাথমিক তদন্তে খুনের কোনও প্রমাণ মেলেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়েছে।”

উল্লেখ্য, বেলডাঙার উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং চাকরির প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট সামনে আসার পর গোটা ঘটনার মোড় ঘুরে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন