নজরবন্দি ব্যুরোঃ পশ্চিমাঞ্চলের নির্বাচনী পর্ব মিটে গেছে। ষষ্ঠ দফায় আরও পূর্বাঞ্চলের দিকে প্রবেশ করছে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচন। এই পর্বে আলোচনা নিউক্লিয়াসে রয়েছে গোরক্ষপুর। যেখানে প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আদ্যপ্রান্ত জাতীয় রাজনীতি থেকে উঠে আসা বিজেপির চর্চিত মুখকে ২০১৭ সালে মুখ্যমন্ত্রী পদে বেছে নিয়েছিলেন দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গের নেতারা। এতে হিন্দুর দরজায় কড়া নাড়া যেমন সুবিধে হয়েছিল, তেমনি বাবা আদিত্যনাথ ওরফে অজয় মোহন বিস্তকে নিয়ে দীর্ঘ পরিকল্পনা ছিল।
আরও পড়ুনঃ Rahul Gandhi: ইউক্রেনে ভারতীয় পড়ুয়াদের বেধড়ক মারধর, সরব রাহুল গান্ধী


গত পাঁচ বছরে বিজেপির প্রতিশ্রুতিমূলক শব্দে রঙ রুলির টান দিতে পারেননি যোগী আদিত্যনাথ। বরং আইনশৃঙ্খলার ইস্যুকে হাতিয়ার করে আক্রমণ শানাতে সুবিধে হয়েছে বিরোধী শিবিরের। তাই গোরক্ষপুরে বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন আদিত্যনাথ। এই তালিকায় প্রথম স্থানে ছিলেন বহুজন সমাজের যুব আইকন চন্দ্রশেখর আজাদ রাবণ। পেশায় আইনজীবী এই ব্যক্তি নিজেকে আম্বেদকরের অনুগামী বলে মনে করেন। ২০১৪ সালে ভীম আর্মি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসাবে পরিচিতি রয়েছে তাঁর। একপ্রকার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েই যোগীর গড়ে ঢুকে পড়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে প্রবেশ করেছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

কিন্তু জনপ্রিয়তার নিরিখে যোগীকে পিছনে ফেলে দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর কাছে শুধুমাত্র নিজের কেন্দ্র নয়, বরং গোটা গোরক্ষপুরে গেরুয়া ঝড়ে বইয়ে দেওয়া সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু তাঁর এই যাত্রা এতটাও সহজ নয়। ২০১৪ সালে গোরক্ষপুরে তাঁর হাত ধরেই নেমেছিল হিন্দু যুবা বাহিনী। এখন তিনি গোরক্ষপুর মঠের প্রধান মোহন্ত। উন্নয়নের নিরিখে নিজের এলাকাতে প্রথমস্থানে থাকলেও রাজ্য নিয়ন্ত্রণে তিনি যে ব্যর্থ সেবিষয়ে বিশ্বাস এবং তর্কের মিলন একপ্রকার অসম্ভব।



শুধুমাত্র প্রশাসনিক নয়, সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও যোগীর দূরদর্শিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। গোরক্ষপুরে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী, বলা যায় মূল প্রতিপক্ষ সমাজবাদী পার্টি দলের প্রার্থী শুভবতী শুক্ল। তিনি প্রাক্তন বিজেপি নেতা উপেন্দ্র দত্ত শুক্লর স্ত্রী। ২০১৭ সালে যোগী আদিত্যনাথ মুখ্যমন্ত্রী পদে নির্বাচিত হলে ওই গোরক্ষপুর লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হন উপেন্দ্র দত্ত শুক্ল। কিন্তু পরাজিত হন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর অসহযোগীতার কারণেই পরাজিত হয়েছেন উপেন্দ্র দত্ত। ২০২০ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় উপেন্দ্র দত্ত শুক্লর। তারপর আর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি যোগী আদিত্যনাথ।
গোরক্ষপুরে বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন আদিত্যনাথ, প্রতিপক্ষ চন্দ্রশেখর আজাদ

এখানে কী ভোট ভাগ হওয়ার সম্ভাবনা? স্থানীয় মানুষের দাবী, এখানে যোগী বাবার হাওয়া সেখানে এখনই বইছে। অখিলেশের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যেতে চান তাঁরা। এখানেই শেষ নয়। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে উঠে আসছে কংগ্রেসের চেতনা পাণ্ডে এবং বহুজন সমাজবাদী পার্টির প্রার্থী হয়েছেন খাজা সামসুদ্দিন। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর হয়ে মেগা শো করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাল্টা শেষ মুহুর্তে প্রচারে ঝড় তুলতে চান অখিলেশ যাদব। অন্যদিকে, লড়াই কঠিন ভেবেও মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন চন্দ্রশেখর আজাদ। হার স্বীকার করতে নারাজ তিনি। সব মিলিয়ে পূর্বাঞ্চলের উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে গোরক্ষপুর।







