নজরবন্দি ব্যুরোঃ সাগরদিঘিতে উলোটপুরাণের জন্য নওশাদের গ্রেফতারি বিরোধীদের পালে হাওয়া লাগিয়েছে। একথাই বারবার রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে উঠে আসছে। এমনটাও বলা হচ্ছে পীরজাদাকে গ্রেফতারের ঘটনায় সংখ্যালঘুরা এবার তৃণমূলের থেকে মুখ ফেরাতে চলেছে। তাই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় সংখ্যালঘু প্রার্থী দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নওশাদের কাকা ত্বহা সিদ্দিকি। কিন্তু ভাইপো নওশাদ জানিয়ে দিলেন তিনি নির্বাচনে সংখ্যালঘু তত্ত্ব মানতে নারাজ।
আরও পড়ুনঃ Anubrata Mondal: কেষ্ট কোথায়? শনিবার থেকে তিনটি চিঠি পাঠাল ইডি
এমনিতেই দুই জনের রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা। ত্বহা সিদ্দিকি বরাবর শাসক দল তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বলেই জানেন অনেকেই। কিন্তু নওশাদ সিদ্দিকিকে গ্রেফতারের পর চুপ করে বসে থাকেননি তিনিও। ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে তিনি। এমনকি শাসক দল ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেও মন্তব্য করতে দেখা যায় তাঁকে। আগামী দিনে সাগরদিঘির ফলাফলের প্রভাব পড়বে একথা নিজেই বলেন ত্বহা সিদ্দিকি। তাঁর যুক্তি, যেখানে সংখ্যালঘু ভোট বেশী, সেখানে সংখ্যালঘু প্রার্থী দেওয়া উচিত। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষ দলের যুক্তিতে আলাদা মত প্রকাশ করলেন নওশাদ।

তাঁর কথায়, সংখ্যালঘু এলাকাতে সংখ্যালঘু প্রার্থী দিলে তাঁরা উপকৃত হবে, এবং সংখ্যাগুরু প্রার্থী দিলে উপকৃত হবে না। এই তত্ত্ব মানতে নারাজ তিনি। তাঁর কথায়, এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেবিনেটে কতগুলি সংখ্যালঘু মন্ত্রী রয়েছে? আমি চাই এমন প্রার্থী, যাঁরা মানুষের কথা ভাববেন, সাংবিধানিক পন্থা মেনে তাঁরা চলবেন। চাকরি তাঁরা বিক্রি করবেন না। সরকারি কর্মচারীদের যাতে হকের প্রাপ্য বুঝিয়ে দেবেন।
নির্বাচনে সংখ্যালঘু তত্ত্ব মানতে নারাজ, কী বললেন নওশাদ?

যদিও সাগরদিঘি নির্বাচনের প্রেক্ষিতে সংখ্যালঘু তত্ত্ব কাজ করেনি। এমনটা স্পষ্ট কারণ এই কেন্দ্র থেকে একাধিকবার জয়লাভ করেছেন তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত সাহা। গত বিধানসভা নির্বাচনে ওই কেন্দ্র থেকেই পরাজিত হয়েছিলেন বিজেপি প্রার্থী মাফুজা খাতুন। তবে উপনির্বাচনে শাসক দলের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগের তত্ত্ব কাজ করেছে। এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।



