তৃণমূলে ফিরছেন মুকুল রায়? কিভাবে খুলছে জট? আজ দ্বিতীয় পর্ব। #Exclusive

তৃণমূলে ফিরছেন মুকুল রায়? কিভাবে খুলছে জট? আজ দ্বিতীয় পর্ব। #Exclusive

অর্ক সানা, সম্পাদক(নজরবন্দি): তৃণমূলে ফিরছেন মুকুল রায়? বিজেপি ব্যাবহার করলেও সম্মান দিচ্ছে না? গত কয়েকদিন ধরেই এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। কারন কদিন আগে যা ঘটেছে তাতে সেই সন্দেহই দানা বাঁধতে শুরু করেছিল। চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে মুকুল রায়ের দিল্লির বাস ভবন থেকে হটাৎই উধাও হয়ে যায় মোদি-অমিত শাহের ব্যানার! মুকুল অনুগামীদের দাবি নাকি দিল্লীর ঝড়ে উড়ে গিয়েছে সব। যদিও ব্যাপারটা যে এমন নয় তাঁর খোঁজ মিলেছে পরে।

আরও পড়ুনঃ বিজেপি-কে নির্মূল করে তৃণমূলেই ফিরবেন চানক্য? কেন? প্রথম পর্ব

বিজেপি সূত্রে খবর পাওয়া যায় মুকুল রায়ের সাথে তীব্র বাদানুবাদ হয় দলের শীর্ষ নেতাদের। তাঁর দাবি ছিল রাজ্য বিজেপি তে একটি শীর্ষ পদ অথবা কেন্দ্রিয় মন্ত্রীত্ব। সূত্রের খবর তিনি বিজেপি শীর্ষ নেতাদের এমন কথাও বলেছেন যে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে সংখ্যালঘু ভোট বিজেপি তে সরিয়ে আনবেন। এবং দূর্বল করে দেবেন তৃণমূল কে। কিন্তু রাজ্য বিজেপি-তে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা বা কেন্দ্রিয় মন্ত্রীত্ব, মুকুল রায়ের দুটো প্রস্তাবের কোনটি দিতেই রাজি হননি বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতারা। সবথেকে বেশি এই বিষয়ে আপত্তি করেন দিলীপ ঘোষ। এবং সেই বাদানুবাদের ভিত্তিতেই একপ্রকার অভিমান করে দিল্লীর বৈঠক ফেলে রেখে কলকাতায় ফিরে আসেন মুকুল রায়। মুকুল রায় আচমকা দিল্লি ফিরে আসার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের একটি তাতপর্যপূর্ণ মন্তব্য জল্পনা বাড়িয়ে দেয়। দিলীপ ঘোষ বলেন, বিজেপিতে ব্যাক্তির থেকে দল বড়।

দিলীপ ঘোষের কথা অনুযায়ী, “মুকুলদা আমাদের জানিয়েই কলকাতা গিয়েছেন। আমাদের দলের গুরুত্বটাই আসল, কোনও ব্যক্তির নয়। দল যাকে যে ভাবে ব্যবহার করার প্রয়োজন মনে করে, তাকে সেই ভাবে কাজে লাগায়।’’ অন্যদিকে মুকুলের ১৮১ দিল্লীর বাস ভবন থেকে এদিন সরিয়ে দেওয়া হয় বিজেপি নেতাদের যাবতীয় পোস্টার, কাট আউট। মুকুল রায় শিবিরের দাবি সব কিছুই নাকি ঝড়ে উড়ে গিয়েছে। যদিও দিল্লিতে যা ঝড় হয়েছে তাতে ১০০ শতাংশ ব্যানার পোষ্টার উড়ে যাওয়ার কথা নয়। কারন কোন ব্যানার বা পোস্টারের চিহ্ন মাত্র ছিলনা। অন্যদিকে কলকাতায় ফিরে মুকুল রায় জানান তিনি চোখের চিকিৎসা করাতেই মাঝপথে ফিরে এসেছেন দিল্লী থেকে। কলকাতায় ফিরে আসার পর মুকুল রায় কে ফের কলকাতা থেকে দিল্লিতে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও বিজেপিতে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ এখনো দেওয়া হয়নি মুকুল রায় কে।

আসা যাক করোনা পরিস্থিতিতে রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যের প্রসঙ্গে। একদিকে যখন দিলীপ, সায়ন্তন বা রাহুল সিংহ রা করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের ভূমিকা নিয়ে মুণ্ডপাত করে চলেছেন তৃণমূল সরকারের তখন মুকুলের গলায় শোনা যায় অন্য সুর। চলতি বছরের জুন মাসে বীরভূমের সিউড়িতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে মুকুল বলেন, “আমাদের রাজ্যে মৃত্যুর হার যাই হোক, এখন যে জায়গায় দাঁড়িয়েছে, তাতে মৃত্যুর হার কমছে এবং সুস্থ হওয়ার হার বাড়ছে। এ রাজ্যে ৪০ শতাংশ রোগী সুস্থ হচ্ছেন!”

এদিকে বিজেপি-তে কার্যত একঘরে করে দেওয়ার চেষ্টায় কিছুটা ছেদ পড়ে কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র হস্তক্ষেপে। যার ফল কদিন আগে শুভ্রাংশু কে ‘বিধায়ক’ হিসেবে স্থান দেওয়া হয় বিজেপি রাজ্য কমিটিতে! কিন্তু মুকুল রায়ের মত নেতার কি শুধু এটুকুই পাওনা ছিল? বঙ্গ রাজনীতির চানক্য কি ভুলে গেলেন রাজনীতি? প্রশ্নের উত্তর মিলল কথায় নয় কাজে। যেভাবে ২০১৭ সালে মুকুল রায় নিজে প্রথমে বিজেপি তে যোগ দিয়ে তারপর ঘনিষ্ঠদের একে একে বিজেপিতে নিয়ে গিয়েছিলেন, ঠিক একই ভাবে একটি রাজনৈতিক খেলা দেখছে বাংলা যা মুকুল রায়ের গুটি চালনার উলটো পদ্ধতি!

তৃণমূলে ফিরছেন মুকুল রায়? মুকুল ঘনিষ্ঠ বাঁকুড়া বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তুষারকান্তি ভট্টাচার্য, বিপ্লব মিত্র, প্রশান্ত মিত্র, হুমায়ুন কবীর-রা ফিরেছেন তৃণমূলে। ২১ নির্বাচন যত সামনে আসবে এই লাইন ততই দীর্ঘ্যতর হবে তা বলাই বাহুল্য। সবথেকে বড় বিষয় যে দলত্যাগীরা ফের তৃণমূলে ফিরছেন তাঁদের সম্মান দেখিয়ে দলে গ্রহন করেছে তৃণমূল। ফিরিয়ে দিয়েছে পুরনো জায়গা। অর্থাৎ? এই অর্থাৎ এর উত্তর সাম্প্রতিক একটি ঘটনা থেকেই পাওয়া যায়। তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনে নতুন করে অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করে সিআইডি। সেখানে অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের। কিন্তু নাম নেই মুকুল রায়ের। তাঁকে সন্দেহভাজন হিসাবে চিহ্নিত করেছে সিআইডি। কিন্তু সূত্র বলছে এই ঘটনা নাকি এক যাত্রায় পৃথক ফলের মত! কেউ মানুন বা না মানুন সিবিআই আর কেন্দ্রীয় সরকার এদিকে সিআইডি আর রাজ্য সরকারের সম্পর্ক অনেক টা রবীন্দ্রনাথের ভাষায় “নিবিড় নিভৃত পূর্ণিমানিশীথিনী-সম!” সুতরাং…(ক্রমশ) (আগামীকাল শেষ পর্ব।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x