পদ ছাড়ছেন না, উল্টে দলের প্রচারে থাকবেন, জানালেন অখিল গিরি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ১০৮ টি পুর এলাকার নির্বাচন ২৭ ফেব্রুয়ারি। ১০৭ টি পুর এলাকায় দলের প্রার্থী তালিকা ঘিরে সরগরম শুরু হয়েছে। সেই ক্ষোভে দলীয় কর্মীদের অসন্তোষ ছড়াতে শুরু করেছিল। শোনা যাচ্ছিল, দলের আহ্বায়ক পদ ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি। সেই জল্পনায় নিজেই অবসান ঘটালেন রাজ্যের মন্ত্রী। পদ ছাড়ছেন না, উল্টে দলের প্রচারে থাকবেন নজরবন্দিকে জানালেন নিজেই।

আরও পড়ুনঃ পুরভোট নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল তৃণমূল

নজরবন্দিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি জানালেন,”কোনও পদ ছাড়ছি না। কিছু লোক বিভ্রান্তকর খবর ছড়ানোর চেষ্টা করছে। দল যাদের প্রার্থী করেছে তাঁদের হয়ে প্রচার করব”। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটালেন মন্ত্রী নিজেই।

উল্লেখ্য, গতকাল তৃণমূলের তরফে ১০৭ টি পুর এলাকার প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরেই মৎসমন্ত্রীর বাড়ির সামনে তৃণমূল কর্মীরা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কাঁথি এগরার তিনটি ওয়ার্ড ৭,১০ এবং ১১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থীতালিকা নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। অতনু গিরি, দিলীপকুমার মাইতি এবং তরুণকুমার বেরার বিরুদ্ধে অসন্তোষ দেখাতে শুরু করেন কর্মীরাই। অভিযোগ কিছুদিন আগেই বিজেপি থেকে তৃণমূলে আসা এই সমস্ত লোকদের প্রার্থী করেছে দল।

পদ ছাড়ছেন না, উল্টে দলের প্রচারে থাকবেন, জানালেন অখিল গিরি
পদ ছাড়ছেন না, উল্টে দলের প্রচারে থাকবেন, জানালেন অখিল গিরি

কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমন করতে নিজের হাতেই ব্যাটন ধরলেন অখিল গিরি। আমি দলের তৈরি করা কাঁথি-এগরা নির্বাচনী কমিটির আহ্বায়ক। ৫ জনের কমিটি। আমি প্রত্যেক ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আলোচনা করেছি। সেইমতো দলকে প্রার্থীতালিকা পাঠিয়েছে। সে কপি আমার কাছেও আছে। প্রয়োজনে দেখতে পারেন। তাতে দল অনুমোদন দেয়নি। তার ফলে স্বাভাবিকভাবেই সকলের ক্ষোভ বাড়ছে। এখনও ‘দাদার অনুগামী’ বলে যাঁরা পরিচিত, তাঁরা প্রার্থীতালিকায় কীভাবে জায়গা পেলেন জানিনা? আমি তালিকা দেখে মর্মাহত। তাই ভেবেছি কনভেনার পদ ছেড়ে দেব। আপনারা শান্ত হোন”।

পাল্টা বিজেপি নেতা কণিষ্ক পণ্ডার বক্তব্য, “আমরা আগে দেখেছি যে কোনও মিছড়ি বিক্রি করতে গেলে সেখানে লেখা থাকত সই এবং ছবি দেখে নিতে হবে। তো আমরা দেখলাম তৃণমূলের যে ‘আসল’ তালিকা প্রকাশ হল সেখানে সই থাকবগে সুব্রত বক্সির। সারা বাংলায় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা বিরল দৃষ্টান্ত। কিন্তু এটা তৃণমূলে হওয়া স্বভাবিক। বিধায়ক হলে কলকাতা নির্বাচনে টিকিট পাবে পরিবারের সদস্য টিকিট পাবে। কিন্তু গ্রামের নেতৃত্বদের গিনিপিক বানিয়ে রাখা হবে তাঁদের কিছু করা যাবে না। এটা কি ধরনের নিয়ম?”

তাঁর সংযোজন,”শীবঠাকুরের আপনদেশে আইনকানুন সর্বনেশে। তৃণমূলের আপন দেশে দুই রকম আইন থাকবে। সেই ঘটনা কাঁথিতেও দেখলাম। এরা প্রত্যেকেই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূলের যে গণতন্ত্র নেই তা অখিল গিরির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে”।

পদ ছাড়ছেন না, উল্টে দলের প্রচারে থাকবেন, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির 

পদ ছাড়ছেন না, উল্টে দলের প্রচারে থাকবেন, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির 
পদ ছাড়ছেন না, উল্টে দলের প্রচারে থাকবেন, পাল্টা কটাক্ষ বিজেপির 

অখিল গিরির মত বদল নিয়ে বলেন,”এটা আসলে তোলামূল পার্টি। যার ম্যানেজিং ডিরেক্টর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদি না মেনে নেয় তাহলে তোলা তুলতে পারবে না। তোলা না তুললে দল যে চলবে না সেটা গতকালই ধমক দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন। ভালো। আমরা ১৮ টি ওয়ার্ডে এগিয়ে রয়েছি। আমরা মেন করি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে স্বচ্ছভাবে জয়লাভ করব কাঁথি পুরসভা”।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত