নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যসভার মানস-দীনেশের জায়গায় কারা? জল্পনা তুঙ্গে শাসকশিবিরের অন্দরমহলে। রাজ্যে ২০০ র বেশী আসন পেয়ে তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস। গঠিত হয়েছে মন্ত্রীসভাও। এদিকে নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে যাতে উপনির্বাচনে লড়তে পারেন মমতা তার জন্য নিজের জয় করা আসন ছেড়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে তিনি খরদায় প্রার্থী হতে পারেন উপনির্বাচনে। অন্যদিকে রাজ্যসভায় ফাঁকা হয়েছে তৃণমূলের দুটি আসন। প্রথমটি দীনেশ ত্রিবেদী।
আরও পড়ুনঃ CBSE-এর পরীক্ষায় বড়সড় রদবদল? আজ বৈঠকে বসছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী।
যিনি ভোটের কিছুদিন আগেই তৃণমূল ছেড়ে যোগ দেন বিজেপিতে। অন্যজন সবংয়ের বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। যাকে ইতিমধ্যেই মমতা যুক্ত করেছেন নিজের মন্ত্রীসভায়। তাই তাঁর ফের রাজ্যসভায় ফেরার সম্ভাবনা কম। দীনেশের বদলে যার নাম প্রথমে উঠে আসছেন তিনি কিছুদিন আগেই তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিন্হা। প্রবল বিজেপি বিরোধী প্রবীণ এই নেতাকে রাজ্যসভায় পাঠানোর চিন্তা রয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। যদিও যশবন্ত নিজে তাঁর ঘনিষ্ঠমহলে জানিয়েছেন, রাজ্যসভা সাংসদের পদের জন্য তাঁর কোনও মোহ নেই। তিনি চান নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ জুটিকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের হাল ফেরাতে। তবে যশবন্ত যা-ই বলুন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন মমতাই।
রাজ্যসভায় একজন সাংসদের মেয়াদ থাকে ৬ বছরের। দীনেশ নিজে ওই পদে ছিলেন এক বছর। তাই যিনি আসবেন তিনি সময় পাবেন ৫ বছর। এদিকে জল্পনা শুরু হয়েছে মানস ভুঁইয়াকে নিয়েও। মন্ত্রীপদে শপথ নিলেও এখনও সাংসদ পদ ছাড়েননি মানস। তবে মন্ত্রী থাকলে ছাড়তেই হবে সাংসদ পদ। মানসকে রাজ্যসভায় রেখে দিয়ে সদ্য মমতাকে ভবানীপুর কেন্দ্র ছেড়ে-দেওয়া শোভনদেবকে সবংয়ে দাঁড় করানো হবে কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। তবে সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ। প্রশ্ন উঠছে তবে কি শোভনদেবকেই পাঠানো হবে রাজ্যসভায়? তবে তৃণমূলের একাংশের মত প্রবীণ নেতা শোভনদেব জাতীয় স্তরের চেয়ে রাজ্যের পক্ষেই ভাল। তা ছাড়া মানস সবং ছেড়ে দিলে ওই আসনের দাবিদার হতে পারেন তাঁর স্ত্রী গীতা। যিনি মানস কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে গিয়ে পর্যায়কত্রমে রাজ্যসভায় যাওয়ার পর সবং থেকে উপনির্বাচনে লড়ে জিতেছিলেন। \
এদিকে শোভনদেবকে খরদহ আসন দেওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কারণ ওই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক অমিত মিত্র ইতিমধ্যেই অর্থমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন তাই তাঁকে জিততেই হব। অসুস্থ অমিতবাবুর জন্য সবথেকে নিরাপদ আসন খরদহই। কারণ ওই আসনটি ২৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছে তৃণমূল। কিন্তু জয়ী প্রার্থীর করোনায় মৃত্যু হয়েছে ফল প্রকাশের আগেই। সেদিক দিয়ে অমিতের পক্ষে ‘আদর্শ’ হতে পারে খড়দহ। শোভনদেব এর জন্য আরেকটি বিকল্প হল নদিয়ার শান্তিপুর আসনে উপ নির্বাচন। কারণ সেখানে জয়ী বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকার সাংসদ থাকায় বিধায়ক পদ ছেড়েছেন। ওই আসনে তৃণমূলের প্রার্থী অজয় দে-র মৃত্যু হয়েছে করোনায়। ফলে তৃণমূলকে সেখানে নতুন প্রার্থী দিতে হবে।
রাজ্যসভার মানস-দীনেশের জায়গায় কারা? জল্পনা তুঙ্গে শাসকশিবিরের অন্দরমহলে। তবে ওই আসনে তৃণমূল প্রায় ১৬ হাজার ভোটে হেরেছিল। ফলে সেখানে ওজনদার প্রার্থী দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন নেতাদের একাংশ। সেক্ষেত্রে শোভনদেব যথেষ্ট ভাল বিকল্প হতে পারে। আপাতত বিধানসভা থেকে উপনির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে জোর জল্পনা শাসক শিবিরের অন্দরে।



