নজরবন্দি ব্যুরোঃ শুধু তৃণমূল নয়, কংগ্রেসও ভাঙাচ্ছেন শুভেন্দু! একদম ঠিক দেখলেন। যেদিন আবদুল মান্নান শুভেন্দুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন, তার লড়াই কে কুর্নিশ করলেন সেদিনই জানা গেল শুধু তৃণমূল নয় কংগ্রেস-ও ভাঙাচ্ছেন। আজ বিধানসভা থেকে ইস্তফা দিয়েই শুভেন্দু অধিকারী রওনা হয়ে যান বর্ধমানের উদ্দেশ্যে। সেখানে বৈঠকে করেন তৃণমূলের বেসুরোদের সাথে।
আরও পড়ুনঃ “মাথা ঠান্ডা রাখ” জিতেন্দ্রকে পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর।


এদিন বিকেলে পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডলের বাড়িতে ঘণ্টাখানেক মিটিং করেন। জানা গিয়েছে মূলত নাকি প্রশান্ত কিশোর কে নিয়েই তাঁদের আলোচনা হয়েছে। তৃণমূলের অনেকেই মেনে নিতে পারছেন না প্রশান্ত কিশোর কে। কিন্তু সুনীল সাংসদ হয়েছেন সবেমাত্র! এখনও মেয়াদ বাকি রয়েছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। তিনি কিনা শুভেন্দুর সাথে উদ্দেশ্য কি? সূত্রের খবর সুনীল দায়িত্ব নিয়ে পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল গড় ভাঙছেন। সাংসদ হিসেবে নয়, পরবর্তীতে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে তাহলে সেই সরকারের মন্ত্রী হবেন তিনি!
উল্লেখ্য, এদিন সুনীল মন্ডলের বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারীর পদার্পনের আগেই পৌঁছে যান কালনার বিধায়ক বিশ্বজিৎ কুণ্ডু, শালতোড়ার স্বপন বাউড়ি, গুসকরার প্রাক্তন কাউন্সিলর নিতাই চট্টোপাধ্যায়, পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সদস্য নুরুল হাসান, আসানসোলের প্রশাসক তথা পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, তৃণমূল নেতা কর্নেল দীপ্তাংশু চৌধুরি-সহ আরও অনেক তৃণমূল নেতা!
শুধু তৃণমূল নয়, কংগ্রেসের পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়-সহ কিছু কংগ্রেস নেতাট যোগাযোগে রয়েছেন শুভেন্দুর সাথে। তাতপর্যপূর্ণ বিষয় হল এদিন বিধানসভয় শুভেন্দু ইস্তফা দেওয়ার সময়ে সুদীপ তাঁর সঙ্গে ছিলেন! অন্যদিকে কংগ্রেস ভাঙার মুখে থাকলেও শুভেন্দু কে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান!


শুভেন্দু-র ইস্তফা নিয়ে উচ্ছসিত আব্দুল মান্নান বলেন, “শুভেন্দুর যাত্রা শুভ হোক। বাংলায় স্বৈরাচারী শাসন খতম করার যে শপথ ও নিয়েছে, সেই লড়াই সফল হোক।” তিনি আরও বলেন, “এটা দেখে ভাল লাগছে যে শুভেন্দু নৈতিক পথে থেকে যা করার করছে। বিধানসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে, তার পর তৃণমূল ছাড়ছে। অথচ কংগ্রেস থেকে তৃণমূল গত পাঁচ বছরে যে সব বিধায়ককে ভাঙিয়ে নিয়েছে, তাঁরা কেউ ইস্তফা দেয়নি। খাতায়-কলমে কংগ্রেসের বিধায়ক পদে থেকে নির্লজ্জের মতো তৃণমূলের ঝাণ্ডা নিয়ে ঘুরছেন।”
মান্নানের মন্তব্য, ” বাংলায় স্বৈরাচারী শাসন চালাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গণতন্ত্রকে কবে খতম করে দিয়েছেন ওঁরা। শুভেন্দু ও তাঁর পরিবারকে আমি গত কয়েক দশক ধরে চিনি। ওরা বরাবর ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতি করেছে, বহুত্ববাদের পরিবেশ মজবুত করার পক্ষে কাজ করেছে। আমি বিশ্বাস করি, শুভেন্দু যে দলেই যাক না কেন সেই পরম্পরা অব্যাহত রাখবে!” কিন্তু প্রশ্ন উঠছে শুভেন্দু যে যাত্রা পথে হেঁটে মমতা সাম্রাজ্যের পতন ঘটাতে চাইছেন তা গেরুয়া পথে, সেই পথ কে কিভাবে সমর্থন করতে পারেন আব্দুল মান্নান! তিনি তো কংগ্রেস নেতা







