নজরবন্দি ব্যুরোঃ “মাথা ঠান্ডা রাখ” জিতেন্দ্রকে পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর। “মাথা ঠান্ডা রাখ” বলে জিতেন্দ্রকে কোচবিহার থেকে ফোন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। এমনকি দলনেত্রী তাঁকে বলেন,’তিনি নিজে পুরো বিষয়টি দেখছেন। সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।‘ জিতেন্দ্রকে মমতা আরও নির্দেশ দেন, তিনি যেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ছাড়া কলকাতায় কোনও মন্ত্রীর সঙ্গে কথা না বলেন।
আরও পড়ুনঃPM CARES সরকারি নাকি বেসরকারি! উঠছে প্রশ্ন।


এর আগে বুধবার সকালে একটি প্রকাশ্য সভায় জিতেন্দ্র বলেছিলেন, আপাতত তৃণমূলের কোনও সভা বা শ্রমিক সংগঠনের বৈঠকে তাঁকে দলের পক্ষ থেকে যোগ দিতে নিষেধ করা হয়েছে। জিতেন্দ্র যখন ওই কথা বলছেন, তখন মমতা কোচবিহারে। সেখানে তিনি ২৫টিরও বেশি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। পাশাপাশিই ঘোষণা করেন, বৃহস্পতিবার বেলা তিনটে নাগাদ তিনি পুরসভার সমস্ত কর্মী এবং আধিকিরিকদের সঙ্গে দেখা করবেন। তখনই জল্পনা ছড়ায় যে, জিতেন্দ্র পুর প্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন।
ঘটনাচক্রে, তার কিছুক্ষণের মধ্যেই কোচবিহার থেকে মমতা ফোন করেন জিতেন্দ্রকে। তিনি সরাসরিই জিতেন্দ্রকে বলেন মাথা ঠাণ্ডা রাখতে। তিনি সব সমস্যার সমাধান করে দেবেন। উল্লেখ্য, আসানসোলে দলের শ্রমিক সংগঠনের মঞ্চ থেকে বুধবার জিতেন্দ্র তিওয়ারি মন্তব্য করেন, এটিই হয়তো জেলা সভাপতি হিসেবে তাঁর শেষ বক্তব্য। সেইসঙ্গে তিনি বলেন,” আমাকে দল থেকে বলা হয়েছে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত যেন কোনো কাজে যুক্ত না হতে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বললে চলে যাব। কিন্তু মানুষের সঙ্গেই থাকব। মানুষের বাইরে তো আর থাকতে পারব না!’
আসানসোলের গ্রাফাইট কারখানার মেন গেটের সামনে বুধবার তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভা ছিল। সেখানেই জিতেন্দ্র বলেন, ‘‘আমি মনে করছি, দলের জেলা সভাপতি হিসেবে হয়তো এটাই আমার শেষ বক্তব্য। কেননা কাল (মঙ্গলবার) রাতে কলকাতা থেকে আমাকে ১৮ তারিখ (শুক্রবার। যেদিন তাঁর সঙ্গে নেত্রীর বৈঠকের কথা) পর্যন্ত দলীয় সভা বা শ্রমিক সংগঠনের বৈঠকে না যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’ নিষেধ সত্ত্বেও অবশ্য দলের শ্রমিক সমাবেশে এসেছিলেন জিতেন্দ্র। এবং সে কারণে তাঁর বিরুদ্ধে দল কোনও ব্যবস্থা নিলে তিনি তৈরি বলেও জানান জিতেন্দ্র। তিনি বলেন, ‘‘বিকেলের মধ্যেই যদি জেলা সভাপতির পদ ছাড়তে হয়, তবে আমার দু’মিনিট সময়ও লাগবে না। আমি ছেড়ে দেব!’’


“মাথা ঠান্ডা রাখ” জিতেন্দ্রকে পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রীর। তৃণমূলের বিধায়ক হয়েও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে কেন্দ্রীয় অনুদান থেকে আসানসোলকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তোলেন জিতেন্দ্র। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে ওই মর্মে জিতেন্দ্র চিঠি পাঠানোর পর সোমবার থেকেই চাপানউতোর শুরু হয়। সমস্যা মেটাতে শীর্ষ নেতৃত্ব মঙ্গলবার কলকাতায় তৃনমূলের শীর্ষনেতাদের সঙ্গে জিতেন্দ্রকে বৈঠকে যোগ দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই বৈঠক হয়নি। এবার মুখ্যমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফর শেষে জিতেন্দ্রর বৈঠক নিয়ে কি আলোচনা হবে সে নিয়ে রাজ্য-রাজনীতিতে চাপানোতর শুরু হয়েছে ।







