এলাকাসবাসীদের কথায়, তৃণমূল নেতা তাজমুল ওরফে জেসিবি নাকি এত দ্রুত যে কোনও বিচার দিতে পারেন যে কার্যত তাঁর জুড়ি মেলা ভার। গ্রামের বিভিন্ন অন্যায়-অবিচারের ঘটনায় সবার আগে ডাক পড়ে তাঁর। তিনি এসে যাওয়া মানে সকলেই নিশ্চিন্ত। তবে, হ্যাঁ, জেসিবি বিচার করেন তাঁর নিজস্ব কায়দায়। সেখানে ভারতীয় সংবিধানের আইন মানা হবে এমন কোনও গ্যারান্টি নেই। সেই কারণেই তো তাঁর নাম জেসিবি, অর্থাৎ, নিমেষে কাজ খতম!
রবিবার দুপুর নাগাদ একটি চাঞ্চল্যকর ভিডিও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই ভিডিওতে (যদিও সেই ভিডিও-এর সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) দেখা যায়, এক যুগলকে রাস্তায় ফেলে এক ছড়া কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক মারধর করছেন এক ব্যক্তি। এই ঘটনা যদিও ঘটেছে গত ২৮ জুন। এরপর জানা যায়, সেই ব্যক্তি তৃণমূল নেতা। তাঁর নাম তাজমুল ওরফে জেসিবি! এরপরই তাঁকে ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ এবং অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। জেসিবিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইসলামপুর থানায়।



জানা গিয়েছে, চোপড়ার এক যুবকের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন এক তরুণী। আর সেই অপরাধে যুগলকে রাস্তায় ফেলে ব্যাপক মারধর করেন তৃণমূল নেতা তাজমুল ওরফে জেসিবি। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সমাজমাধ্যমে। নানান দিক থেকে নিন্দার ঝড় বয়ে যায়। অবশ্য কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জানা যাচ্ছে, তাজমুলের বিরুদ্ধে খুন সহ অন্তত এক ডজনের বেশি অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তিনি বিধায়ক হামিদুর রহমানের ঘনিষ্ঠ এবং এলাকার ‘বাহুবলি’ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁকে কখনও গ্রেফতার করা হয়নি।
ভাইরাল ভিডিও-তে দেখা গিয়েছে, জেসিবি যখন মাঝ রাস্তায় তাঁর সালিশি সভা চালাচ্ছেন তখন তাঁকে ঘিরে ধরে রয়েছে লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের দিঘলগাঁও এলাকার বাসিন্দারা। সকলেই নীরব দর্শকের ভূমিকায়। কেউ প্রতিবাদই জানাননি ঘটনার।
Not even #KangarooCourt ! Summary trial and punishment handed out by d @AITCofficial goon nicknamed JCB.
Literally bulldozer justice at Chopra under @MamataOfficial rule. pic.twitter.com/TwJEThOUhiRelated Newsভোটগণনার দিনেই দুর্যোগ! বৃষ্টি-ঝড়ে কমলা সতর্কতা জারি বাংলায়কালো মেঘে ঢাকছে আকাশ, কয়েক ঘণ্টা পরেই ঝড়বৃষ্টির দাপট—উপকূলে সতর্কতা জারি— Md Salim (@salimdotcomrade) June 30, 2024
যুবক যুবতীকে তাজমুল ঘুসি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়ার পর মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থাতেই কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক পেটানো শুরু করে। যুবতীকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কঞ্চিপেটা করে। দুই জনকেই লাথি, ঘুষি মারতে থাকে তাজমুল। যুগলকে আর্থিক জরিমানারও পরিকল্পনা ছিল জেসিবির। যদিও তিনি এই মুহূর্তে গ্রেফতার হয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়েছে।
সালিশি সভায় তাঁর মতো বিচারকের জুড়ি মেলা ভার! চোপড়ার এই তৃণমূল নেতা JCB আসলে কে? এত ক্ষমতাই বা কেন?

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার পর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিরোধী দলের একাধিক নেতা-নেত্রী। বিজেপি নেতা অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, ‘এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অপশাসন’। সমালোচনা করেছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমও। এখন, দলের তরফে জেসিবি-র বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।









