SIR ঘোষণার আগে ১৭ এসডিও এবং ১৫১ বিডিও-কে বদলি করল নবান্ন, শুক্রবার রাতেই প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি

নবান্নে প্রশাসনিক ভূমিকম্প! ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের আগে রাজ্যজুড়ে মহকুমা ও ব্লক স্তরে একযোগে রদবদল, বদলি শতাধিক আধিকারিক

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) শুরুর আগেই রাজ্য প্রশাসনে এক বড় প্রশাসনিক রদবদল (Administrative Reshuffle) ঘটাল নবান্ন। মহকুমা থেকে ব্লক—দুই স্তরেই পরিবর্তনের হাওয়া। শুক্রবার রাতেই প্রকাশিত হয়েছে নবান্নের বিজ্ঞপ্তি, যেখানে ১৫১ জন বিডিও (BDO) ও ১৭ জন এসডিও (SDO)-কে বদলি করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে এই সিদ্ধান্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এতেই থেমে থাকেনি বদলির পর্ব। রাজ্য ও জেলা প্রশাসনের আরও ২৬৩ জন WBCS অফিসার-এর বদলির বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মিবিনিয়োগ দফতর। সোমবার এই রদবদলের খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে— কেন ঠিক SIR শুরুর আগেই এত বড় পদক্ষেপ?

নবান্ন সূত্রে খবর, এই রদবদল আগেই পরিকল্পিত ছিল, কিন্তু দুর্গাপুজো ও দীপাবলির মতো উৎসবের কারণে তা স্থগিত রাখা হয়েছিল। উৎসব শেষে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে ব্লক পর্যন্ত একযোগে বদলির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

শীর্ষ প্রশাসনিক পদে বড় রদবদল
প্রশাসনিক সংস্কার দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ৬৪ জন আইএএস ও ডব্লিউবিসিএস আধিকারিকের দায়িত্ব পরিবর্তন হয়েছে। কলকাতা পুরসভার কমিশনার ধবল জৈন-কে পাঠানো হয়েছে বীরভূমের জেলা শাসকের পদে (DM Birbhum)। তাঁর জায়গায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা শাসক সুমিত গুপ্ত এসেছেন কলকাতা পুরসভার কমিশনার হিসেবে।

কোচবিহারের জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মীনা-কে পাঠানো হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। অন্যদিকে, হিডকো (HIDCO)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শশাঙ্ক শেট্টি-কে সরিয়ে তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক রাজশ্রী মিত্র। মুর্শিদাবাদের নতুন জেলা শাসক হয়েছেন নিতিন সিঙ্ঘানিয়া, যিনি আগে মালদহের দায়িত্বে ছিলেন। মালদহের নতুন জেলা শাসক হয়েছেন দার্জিলিংয়ের প্রীতি গয়াল।

একাংশের মতে, এই রদবদল সময়ের বিচারে অত্যন্ত কৌশলগত (Strategic Move)। কারণ, সোমবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গে শুরু হচ্ছে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন (Special Intensive Revision)। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেলে রাজ্য প্রশাসনে কোনও ধরনের বদলির ক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) মতামত আবশ্যক হয়।

তাই নবান্ন চায়নি কমিশনের অনুমতির অপেক্ষা করতে, বরং তার আগেই বড় পদক্ষেপে নামল সরকার। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এটি রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুন ভোট পর্বের জন্য প্রস্তুত করার ইঙ্গিত।

ছুটির মধ্যেও নির্দেশ জারি
উল্লেখযোগ্যভাবে, কালীপুজো ও ভাইফোঁটা উপলক্ষে সরকারি অফিসগুলিতে ছুটির আবহ (Holiday Mode) চললেও, সেই সময়েই জারি করা হয়েছে বদলির নির্দেশ। সোমবার ও মঙ্গলবার ছটপুজোর ছুটি থাকলেও, এই সময়েই বহু আধিকারিককে নতুন দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, এটি রাজ্যের দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতার প্রমাণ।

বিশ্লেষণ ও প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বদলি কেবল পদ পরিবর্তন নয়, বরং রাজনৈতিক প্রস্তুতির অংশ। আগামী কয়েক মাসে রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের কাজ শুরু হওয়ার আগে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক সুরক্ষাবলয় শক্ত করার প্রচেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।

তাঁদের মতে, বিডিও ও এসডিও স্তরে বদলি মানে ভোটের মাঠে সরাসরি প্রভাব, কারণ এই কর্মকর্তারাই গ্রামীণ প্রশাসন ও নির্বাচনী লজিস্টিকসের মূল ভিত্তি। তাই নবান্নের এই পদক্ষেপ নিছক প্রশাসনিক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ (Politically Significant)।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর