এলপিজি নিয়ে আতঙ্কের মাঝেই নবান্নের বড় পদক্ষেপ! কমিটি, কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন চালু—জারি ১০ দফা এসওপি

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে এলপিজি সঙ্কটের আশঙ্কায় উদ্বেগ বাড়তেই নড়েচড়ে বসেছে নবান্ন। ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম, হেল্পলাইন ও মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে পর্যবেক্ষক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ঘিরে রান্নার গ্যাসের সম্ভাব্য সঙ্কট নিয়ে যখন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক তখনই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হল নবান্ন। রাজ্য সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—মিডডে মিল, হাসপাতালের রান্না কিংবা সাধারণ গৃহস্থের রান্নাঘর, কোথাও এলপিজি সরবরাহে টান পড়তে দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার একটি বিস্তারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP) প্রকাশ করে রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, এলপিজি সরবরাহ ও মজুতের উপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারির জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য গঠন করা হচ্ছে উচ্চস্তরের কমিটি।

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাবে ভারতে রান্নার গ্যাসের জোগান ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কা গত কয়েক দিনে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও সরকারি মহলের দাবি, বাস্তবে তেমন সঙ্কট তৈরি হয়নি, তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সেই উদ্বেগ কমাতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

এলপিজি নিয়ে আতঙ্কের মাঝেই নবান্নের বড় পদক্ষেপ! কমিটি, কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন চালু—জারি ১০ দফা এসওপি

এলপিজি নিয়ে আতঙ্কের মাঝেই নবান্নের বড় পদক্ষেপ! কমিটি, কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন চালু—জারি ১০ দফা এসওপি
এলপিজি নিয়ে আতঙ্কের মাঝেই নবান্নের বড় পদক্ষেপ! কমিটি, কন্ট্রোল রুম ও হেল্পলাইন চালু—জারি ১০ দফা এসওপি

জারি হওয়া এসওপি অনুযায়ী, নবান্নে একটি ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করা হবে। সেখান থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এলপিজির সরবরাহ, মজুত ও পরিবহণের উপর নজর রাখা হবে। জেলার প্রশাসন, গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা এবং তেল বিপণন সংস্থাগুলির (OMC) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে।

এই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে তেল সংস্থাগুলির তরফেও নোডাল অফিসার নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁদের মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয় রেখে দ্রুত সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

পরিস্থিতির সামগ্রিক তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষক কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। কমিটির কাজ হবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এলপিজির জোগান পরিস্থিতি নিয়মিত খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া।

এ ছাড়াও সাধারণ গ্রাহকদের সমস্যার কথা জানাতে হেল্পলাইন চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনও এলাকায় সরবরাহে সমস্যা দেখা দিলে বা অভিযোগ থাকলে এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে সরাসরি জানাতে পারবেন গ্রাহকেরা।

রাজ্য প্রশাসনের বার্তা স্পষ্ট—অযথা আতঙ্কের কোনও কারণ নেই। জরুরি পরিষেবা থেকে শুরু করে সাধারণ পরিবার—সব ক্ষেত্রেই এলপিজি সরবরাহ বজায় রাখতে প্রশাসন প্রস্তুত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত