পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আগামী ২০২৭ সাল থেকে সরকারি ছুটির সংখ্যা কমানোর চিন্তাভাবনা করছে নবান্ন। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, বর্তমানে বছরে ৫৪ দিন সরকারি ছুটি পান কর্মীরা। সেই সংখ্যা কমিয়ে ৪৫ দিনে আনার প্রস্তাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বছরে ৯ দিন ছুটি কমতে পারে। এমনকী, ছুটির সংখ্যা ৪০ দিনের মধ্যে নামিয়ে আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে খবর। সরকারি দফতরে কাজের গতি বাড়ানো এবং প্রশাসনিক পরিষেবা আরও সক্রিয় রাখতেই এই উদ্যোগ বলে জানা যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যে বছরে প্রায় ৪০ দিনের সরকারি ছুটির ব্যবস্থা রয়েছে। সেই মডেল পশ্চিমবঙ্গেও চালু করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর।
তবে ২০২৭ সালের ছুটির তালিকা নিয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে আগামী বছর সরকারি কর্মচারীদের ছুটি ঠিক কত দিন কমবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
কেন সরকারি কর্মীদের ছুটি কমানোর ভাবনা?
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, সরকারি দফতরে কাজের দিন বাড়ানোই এই প্রস্তাবের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা যাতে দ্রুত সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছয় এবং প্রশাসনিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা কমে, সেই লক্ষ্যেই ছুটির সংখ্যা পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে রাজ্য।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেও সরকারি কর্মীদের কাজের গতি বাড়ানোর বিষয়ে একাধিকবার বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি পুলিশের নিয়োগ সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠান থেকেও সরকারি কর্মীদের ঘড়ির দিকে না তাকিয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে বছরে ৫৪ দিনের সরকারি ছুটির পরিবর্তে ৪৫ দিন করা হলে কর্মদিবস বাড়বে ৯ দিন। আর ছুটির সংখ্যা ৪০ দিনে নামানো হলে বর্তমানের তুলনায় ছুটি কমবে ১৪ দিন। তবে এই দুই সম্ভাবনার মধ্যে কোনটি কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিন নবান্ন থেকে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া টাকা এবং সপ্তম বেতন কমিশন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বকেয়া ৪০০০ কোটি টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বকেয়া যে ৪ হাজার কোটি টাকা রয়েছে সেটাও আমরা দিয়ে দেব আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে।”
একই সঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশনের কাজ এগোচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশনের রিপোর্ট পাওয়ার আশা রয়েছে।
ফলে একদিকে সরকারি কর্মীদের ছুটির সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনা, অন্যদিকে বকেয়া অর্থ প্রদান এবং সপ্তম বেতন কমিশনের রিপোর্ট ঘিরে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে ছুটির তালিকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তির অপেক্ষায় থাকতে হবে সরকারি কর্মচারীদের।



