ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে ফের সময়সূচি বদলের ছবি। সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশন এবং রাজ্য বাজেট পেশের দিন পিছিয়ে দেওয়া হল। আগে ৩১ জানুয়ারি অধিবেশন শুরুর কথা থাকলেও, নতুন সূচি অনুযায়ী ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে বাজেট অধিবেশন, আর ৫ ফেব্রুয়ারি পেশ হবে রাজ্যের ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট। অধিবেশন চলবে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “কিছু অনিবার্য কারণবশত এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।” তাঁর কথায়, ৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম অধিবেশনে রাজ্যপালের ভাষণ হবে এবং দ্বিতীয় অধিবেশনেই বাজেট পেশ করা হবে।
এর আগে সিদ্ধান্ত ছিল, ৩১ জানুয়ারি বাজেট অধিবেশন শুরু হবে, ২ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ এবং ৫ ফেব্রুয়ারি অধিবেশন শেষ। কিন্তু সেই সূচি পুরোপুরি বদলে গেল। ফলে সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশনও পিছিয়ে গেল কয়েক দিন।
এই বাজেট রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি তৃতীয়বার তৃণমূল সরকারের শেষ বাজেট, তবে পূর্ণাঙ্গ নয়। ভোটের আগে নিয়ম মেনে ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেটই পেশ করা হবে। ভোটের পর নতুন সরকার গঠিত হলে পূর্ণাঙ্গ বাজেট আসবে।
এদিকে স্পিকার জানিয়েছেন, আসন্ন অধিবেশনে SIR (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে। তাঁর কথায়, “শুধু জনপ্রতিনিধিরা নন, সাধারণ মানুষের মধ্যেও SIR নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। মন্ত্রী শোভনদেব একটি প্রস্তাব এনেছেন। তা নিয়ে আলোচনা হবে।”
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—হঠাৎ কেন বাজেট পেশের দিন পিছোল? সরকারি ভাবে নির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও প্রশাসনিক মহলে কয়েকটি ব্যাখ্যা ঘুরপাক খাচ্ছে।
একটি মত অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে শাসকদলের একাধিক বড় রাজনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে, যার সঙ্গে অধিবেশনের সময় সামঞ্জস্য করতে গিয়েই তারিখ বদল।
অন্য একটি অংশের ধারণা, ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেটে শেষ মুহূর্তে কিছু সংশোধন বা অতিরিক্ত বিল আনার প্রস্তুতি চলছে।
আরও একটি সম্ভাব্য কারণ নিয়েও জল্পনা তুঙ্গে। সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২৮ জানুয়ারি দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। তিনি কবে ফিরবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অনেকের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচির সঙ্গেও বাজেটের তারিখ বদলের যোগ থাকতে পারে।
সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে রাজ্য বাজেটকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট। ৫ ফেব্রুয়ারির বাজেট বক্তৃতায় কী বার্তা থাকে—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।



