ক্ষমতায় আসার আগে দুর্নীতিমুক্ত বাংলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। শপথ নেওয়ার পর মাত্র ১০ দিনের মধ্যেই সেই বার্তা কার্যকর করতে একের পর এক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে নামল নতুন সরকার। পুলিশ, ইডি ও সিবিআইয়ের যৌথ অভিযানে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী, তৃণমূল নেতা, পুরকর্তা থেকে শুরু করে প্রভাবশালী পুলিশ আধিকারিকও। রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। তার ঠিক দু’দিন পর, ১১ মে রাতে গ্রেফতার হন রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি নিয়োগের অভিযোগে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি। তদন্তে প্রায় ১৫০ জনের নাম উঠে এসেছে বলে সূত্রের দাবি।
১৩ মে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন তৃণমূল কাউন্সিলর শান্তনু মজুমদার ওরফে মেজো। বহরমপুর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। পরদিন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় একই জেলায় আরও দু’জনকে গ্রেফতার করে সিবিআই।
তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারি হয় ১৪ মে রাতে। কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিংহ বিশ্বাসকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার করে ইডি। সোনা পাপ্পু মামলায় বারবার তলব করা হলেও হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সোনা পাপ্পু এবং তাঁর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের সূত্র মিলেছে শান্তনুর।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদারের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া নথিতেও শান্তনুর নাম পাওয়া যায়। এমনকী তাঁকে দেশ ছাড়তে বাধা দিতেই লুক আউট নোটিস জারি করা হয়েছিল। গত মাসে ফার্ন রোডে তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি।
১৭ মে রাজ্যের দুই জেলায় আরও পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নদিয়ার কৃষ্ণনগরে তোলাবাজির অভিযোগে ধরা পড়েন পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ স্মরজিৎ বিশ্বাস। কোচবিহারের দিনহাটায় নকল বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন প্রাক্তন পুরপ্রধান গৌরীশঙ্কর মাহেশ্বরী ও পুরকর্মী মৌমিতা ভট্টাচার্য।
এছাড়াও আবাস যোজনায় কাটমানি নেওয়ার অভিযোগে কোচবিহারের ঘুঘুমারি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তৃণমূলের বুথ সভাপতি প্রতাপচন্দ্র চন্দ এবং পঞ্চায়েত সদস্যা সেলিনা খাতুনকে।
১৮ মে আসানসোলে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হন তৃণমূল নেতা ও আইএনটিটিইউসি ব্লক সভাপতি রাজু অহলুওয়ালিয়া। এর আগেই তাঁর তিন ঘনিষ্ঠকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
নতুন সরকারের এই ধারাবাহিক অভিযানে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, দুর্নীতি ও কাটমানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতেই এগোবে সরকার। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।



