নজরবন্দি ব্যুরোঃ দেখা নেই শীতের (Winter)। একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার দাপটে নকল শীতে জেরবার বঙ্গ। আজ, বুধবারও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে বাংলায়। আংশিক মেঘলা আকাশ। সকালে কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমবে। কলকাতা-সহ জেলাতেও মেঘলা আকাশ। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস ৷ স্বাভাবিকের চেয়ে যা ২ ডিগ্রি বেশি ৷ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিও হতে পারে কলকাতায়। একাধিক জেলায় রয়েছে বৃষ্টির সম্ভাবনা, বলছে হাওয়া অফিস।
আরও পড়ুনঃ করোনায় গুরুতর অসুস্থ সুরজিৎ সেনগুপ্ত, চিকিৎসার উদ্যোগে এগিয়ে এল রাজ্য সরকার।


আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা আগামী ৫ দিন ৩-৫ ডিগ্রি কমবে। ফিরবে শীতের আমেজ। সকালে মেঘলা আকাশ ও ঘন কুয়াশার দাপট থাকবে। কলকাতায় বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি কম। অন্যদিকে, শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ২ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৮ শতাংশ।
আগামিকাল, বৃহস্পতিবার থেকে মেঘমুক্ত পরিষ্কার আকাশ ৷ কমবে রাতের তাপমাত্রা। শনি ও রবিবারের মধ্যে ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমতে পারে। তখন জমিয়ে শীতের আরও একটা স্পেল শুরু হতে পারে। তবে ফের পশ্চিমী ঝঞ্ঝার আগমন হলে যদিও শীত স্থায়ী হবে না। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে পাঁচ জেলায়। উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা বৃষ্টি হতে পারে।
ইতিমধ্য়েই রবিবার থেকে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে। যার জেরে বিস্তর ক্ষতি হয়েছে চাষের। এই সময়টাই মূলত আলু চাষের মরসুম। শুধু আলুচাষ নয়, মরসুমি ফুলচাষেরও সময় এটিই। তাতেও বিস্তর ক্ষতি। আর সবজিচাষের এই ব্যাপক ক্ষতিতে টান পড়ছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে।


এখানেই শেষ নয়, এ বছরের শীতের মরসুমে ক্রমেই বিষবায়ু হয়ে উঠছে কলকাতার বাতাস। পরিবেশবিদরা বলছেন ক্রমেই খারাপ হচ্ছে শহরের আবহাওয়া। বাতাসের গুণগত মান এতটাই খারাপ যে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন দিল্লি দূষণের সঙ্গেও টেক্কা দিতে পারে কলকাতা। ফলে, শীতের কলকাতায় বাতাসে ধোঁয়াশার পরিমাণ বাড়ছে।
বাংলায় বৃষ্টির বিপদ তো রয়েছেই। ভরা মাঘে এমন অকাল বৃষ্টির কারণ হিসাবে আবহাওয়াবিদরা পশ্চিমী ঝঞ্ঝাকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। সম্প্রতি একের পর এক পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে মধ্য ভারত হয়ে সরাসরি বঙ্গে প্রবেশ করছে। যার জেরে পিছু হাঁটতে বাধ্য হয়েছে শীত। উল্টে দফায় দফায় বৃষ্টি হয়ে চলেছে।
দেখা নেই শীতের, রাজ্য জুরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস, কি জানাছে হাওয়া অফিস?

কেন্দ্রীয় আবহাওয়া বিভাগের ‘হ্যাজার্ড অ্যাটলাস’ বলছে, বঙ্গে বারবার এভাবে আবহাওয়ার ঘনঘন পরিবর্তন প্রভাব ফেলবে জলবায়ুতেও। যার জেরে, ঘূর্ণিঝড়ের বিপদ বাড়বে দুই ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে। এই তিন জেলায় রয়েছে প্রবল জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কাও। খরা দেখা দিতে পারে বীরভূম ও নদিয়ায়। গোটা রাজ্যেই হতে পারে অতিবৃষ্টিও।







