নজরবন্দি ব্যুরোঃ এদিকে পৌষ-পার্বণ আর বঙ্গে উধাও শীত। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার পৌষমাস তো শীতের সর্বনাশ, যার জেরে উপরন্তু রাজ্য জুড়ে বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকাল থেকে দক্ষিণবঙ্গে শীত কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকায় তাপমাত্রাও বেড়েছে। সেই সঙ্গে মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে হয়েছে বৃষ্টি। কলকাতাতেও সন্ধ্যায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হয়েছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, আপাতত এই সপ্তাহ জুড়েই এভাবে বৃষ্টিপাত চলবে। সপ্তাহান্তে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে ২৪ ঘন্টায় করোনা আক্রান্ত ২১ হাজার, মৃত্যু ১৯ জনের।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে মঙ্গলবার রাত থেকেই বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। মূলত পশ্চিমের জেলাগুলি, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া,বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমানে ব্যাপক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এরমধ্যে, পশ্চিম মেদিনীপুরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহবিদরা জানাচ্ছেন বাতাসে জ্বলীয়বাষ্পের প্রাদুর্ভাবের জন্যই এই বৃষ্টিপাত। কলকাতায় মঙ্গলবার আবহাওয়া শুষ্কই ছিল। তবে সেভাবে রোদের দেখা মেলেনি। ওইদিন রাতে বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবারও শহরের আকাশ কার্যত মেঘলা।
খড়গপুরের ২ নম্বর ব্লকের সুলতানপুরে মিনিট দুয়েকের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় গোটা এলাকা। মঙ্গলবার থেকেই সেখানে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তারপরেই একটু রাত বাড়তেই প্রবল ঝড়ে ভেঙে পড়ে একাধিক গাছ। ক্ষতি হয়েছে জমিরও। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় গোটা গ্রামে। বেশ কয়েকটি বাড়ির উপর গাছের ডালও ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে, আসানসোলেও ভারী বর্ষণ শুরু হয় মঙ্গলবার থেকেই। যদিও, কিছু সময় পরে বৃষ্টি থেমে যায়।
বুধবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছে সাড়ে ১৭ ডিগ্রিতে। যা স্বাভাবিকের থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি। সকাল থেকেই মহানগরীর আকাশ রয়েছে মেঘলা। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, বুধবার উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমের দু’-একটি জায়গায় শিলাবৃষ্টি হতে পারে।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। অন্যদিকে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে এই বৃষ্টিপাতের জেরে উত্তরের জেলাগুলিতেও শিলাবৃ্ষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৪ ও ১৫ তারিখ শুধুমাত্র দার্জিলিং,কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৬ জানুয়ারি অর্থাৎ রবিবার থেকে আবহাওয়ার কিছু উন্নতি হতে পারে। মাসের তৃতীয় সপ্তাহে ফের হতে পারে পারদ পতন। তবে, তার আগে শীত আসার কোনও সম্ভাবনা নেই।
এদিকে, বৃষ্টি বাড়তে কী হবে চিন্তায় ঘাটাল মহকুমার কৃষকরা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী যদি বৃষ্টি আরও বাড়ে তাহলে চরম ক্ষতি হবে আলু চাষের। এমনিতেই বছরের শুরু থেকে আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় চরম ক্ষতি হয়েছে চাষে। আবার এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় চিন্তার ভাঁজ কৃষকদের কপালে।
টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস বঙ্গে, শীতের ফেরা নিয়ে কি জানাছে হাওয়া অফিস

ইতিমধ্যেই নবান্ন থেকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে জেলার কৃষি আধিকারিকদের কাছে। তাঁদের সবরকমভাবে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। বৃষ্টি হলে চাষিদের শস্যের ক্ষয়ক্ষতি হবেই। বিশেষ করে আলু চাষিদের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হতে পারে এই বৃষ্টি। নবান্নের তরফে বলা হয়েছে, এর জন্য ব্লকের কৃষি আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন রবিশস্যের সময়। একইসঙ্গে এই সময় বোরো ধানও চাষ হয়। সেসব দিকে নজর রাখার কথা বলা হয়েছে।









