নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০২১ কে বিদায় দিয়ে শুরু হল ২০২২ তবুও দেখা নেই শীতের (winter)। হাড়হিম ঠান্ডা না হলেও বেশ কিছুদিন শীতের আমেজ ভোগ করেছে বঙ্গবাসী। বেরিয়েছিল বেশ কয়েকটা শীতের পোষাক, মানুষ মজে ছিল শিতের নানা অনুষ্ঠানে। কিন্তু সেই সুখ আর কথায়, তাপমাত্রা বেড়েই চলেছে। রাজ্যের সর্বত্র হিমেল আমেজ অনুভূত হলেও এখনই শীতের দেখা মিলবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস। তবে, কলকাতা শহরতলি জুড়ে মিলবে কুয়াশা।
আরও পড়ুনঃ এবার করোনা আক্রান্ত টলিউড অভিনেত্রী সাংসদ মিমি
আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার ফলে বাধা পাচ্ছে মরসুমি ঠান্ডা। বৃহস্পতিবার ভোর থেকে কুয়াশায় ঢাকা রয়েছে কলকাতা। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ পরিষ্কার হতে পারে। শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। যা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি কম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৯৯ শতাংশ। ফলে গুমোট ভাব অনুভব করা যাবে বলে জানিয়েছে আলিপুর।
গত ২৪ ঘণ্টায় গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে তাপমাত্রার পারদ সে ভাবে নামেনি। আগামী সপ্তাহের গোড়ায় কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বেশির ভাগ জেলাতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে বেশ কিছুটা বেশি থাকতে পারে। ফলে শীতের ভরা মরসুমেও তেমন ঠান্ডার আমেজ পাওয়া যাবে না বলেই মনে করছেন আবহবিদরা। জোড়া শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝার মধ্যে একটি ইতিমধ্যেই কাশ্মীরে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। অন্যটি আসছে ৭-৯ জানুয়ারির মধ্যে। ফলে একটানা অনেকদিন দুর্বল থাকবে হিমেল হাওয়া।
মরসুমের শীতলতম দিন ছিল ২০ ডিসেম্বর। সেদিন পারদ নামে ১১.২ ডিগ্রিতে। তবে সেই রেকর্ড এই দফায় ভাঙার সম্ভাবনা নেই। উল্টে বৃহস্পতিবার থেকে বাড়তে পারে তাপমাত্রা। অন্তত সাতদিন উধাও হয়ে যেতে পারে শীত।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রের খবর, ’২১-এ গোটা ডিসেম্বর মিলিয়ে কলকাতার রাতের তাপমাত্রার গড় থেকেছে স্বাভাবিকের উপরেই। পরিসংখ্যান বলছে, সর্বনিম্ন তাপমাত্রার গড় দাঁড়িয়েছিল ১৬.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্বাভাবিক ১৫.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, অর্থাত্ স্বাভাবিকের চেয়ে ১.২ ডিগ্রি বেশি। শীতে তো তাপমাত্রা কম থাকবে, হল বেশি! অধরা পাশ মার্কই। কেন বেশি হয়েছে? উত্তর সহজ। ৩১ দিনের মাসে ১৮ দিনই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের উপরে। ১৩ দিন পারদ ছিল স্বাভাবিক বা তার নীচে।
শীতের জন্য চাতকের অপেক্ষা! কবে থেকে শুরু হচ্ছে বঙ্গে বৃষ্টি?

মৌসম ভবনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান, উপমহানির্দেশক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, টানা ঠান্ডা পেতে হলে দুই ঝঞ্ঝার মধ্যে সময়ের ফারাক থাকতে হয়। সেই জন্যই গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর একটানা শীতের আমেজ পেয়েছে কলকাতা। কিন্তু দু’টি ঝঞ্ঝার মধ্যে সময়ের ফারাক না-থাকলে তাপমাত্রা নামার সময় পায় না। আর সেটাই হয়েছে। তাহলে উপায়? আপাতত, শীতের জন্য চাতকের অপেক্ষা! বলছেন সংশ্লিষ্ট মহল।









