কুশল দাসগুপ্ত, দার্জিলিংঃ মমতাকে জেতান, সমর্থকদের ভিড়ে ঠাসা সমাবেশে চেনা মেজাজে গুরুং! শিলিগুড়িতে বিমল গুরুং এর আসাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় চলছিল ট্রেন অবরোধ, পথ অবরোধ। স্বাভাবিক ভাবেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সভাস্থলে পৌঁছাতে পারেন নি বিমল গুরুং। কিন্তু তিনি যখন পৌঁছালেন তখন সভাস্থলে সমবেত হাজার হাজার জনতার হর্ষধ্বনি আর চিৎকার বুঝিয়ে দিল বিমল গুরুং ফিরে এসেছেন স্বমহিমায়!
আরও পড়ুনঃ মরসুমের প্রথম তুষারপাত দার্জিলিংয়ে! পর্যটকদের মনে খুশির হাওয়া।


রবিবার মানুষের ঢল নেমেছিল শিলিগুড়ির গাঁধী ময়দানে। সকাল থেকেই ব্যাপক ভিড় জমান মোর্চা সমর্থকরা। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, কখন আসবেন গুরুং! তবে অপেক্ষা থাকলেও মাঠ সারা দিনই ছিল ভিড়ে ঠাসা। সমর্থকরা মাঠ ছাড়েননি। কথা ছিল, তিনি বিকেল তিনটে থেকে বক্তব্য রাখবেন। কিন্তু পথ অবরোধের কারনে তিনি সভাস্থলে পৌঁছে বক্তব্য রাখা শুরু করেন প্রায় সাড়ে চারটের সময়। নিজের ভাষায় বক্তৃতায করেন তিনি। বক্তব্যে ছিল পুরনো ঝাঁঝ। এদিন গুরুং বলেন, ‘‘উত্তরবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশি আসন জেতানোই এখন আমাদের লক্ষ্য।’’
মমতাকে জেতান, জনস্রোতের মাঝে বিজেপি কে উৎখাতের ডাক দিলেন গুরুং! বিজেপি-কে আক্রমণ করে বিমল গুরুং বলেন, ‘‘কথা দিয়েও রাখেনি বিজেপি। এর জবাব দিতে হবে একুশের নির্বাচনে।’’ পাশাপাশি সভামঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেন, শীঘ্রই দার্জিলিং, কার্শিয়ং, কালিম্পং, মিরিকে জনসভা করবেন। গুরুং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগেল তোলেন। তাঁর কথায়, “একাধিক প্রকল্পে কেন্দ্র দুর্নীতি করছে। রাজু বিস্তাকে সাড়ে চার লাখ ভোটে জিতিয়েছি পাহাড় থেকে। অথচ আমাদের দাবি নিয়ে কোনও আলোচনা নেই।” বিজেপি-র পাশাপাশি বিনয় তামাং বা অনীত থাপাদের লক্ষ্য করেও আক্রমণ শানান বিমল।
এদিন গাঁধী ময়দানের ভিড়ে ঠাসা সমাবেশ থেকে বিমল গুরুং বলেন, “কী ভাবে খরচ হচ্ছে জিটিএর টাকা, তার উত্তর চাই। এর জবাব আমরা বুঝে নেব।” উল্লেখ্য, কদিন আগে মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি বলেছিলেন, ‘‘বিনয় তামাং, অনীত থাপারা পাহাড়কে ধ্বংস করেছে। বিমল ফিরলেই পাহাড়ে উন্নয়ন হবে।’’










