মোথাবাড়ি কাণ্ডে বড় মোড়: মোফাক্কেরুল-সহ দু’জনকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত এনআইএ হেফাজত

মোথাবাড়ি কাণ্ডে এনআইএ-র জোরদার তদন্ত—মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলাম ও সহযোগীকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত হেফাজতে রাখার নির্দেশ আদালতের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

মালদহের মোথাবাড়ি উত্তপ্ত ঘটনায় তদন্তে নতুন গতি—ধৃত আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম এবং তাঁর সহযোগী আকরামূল বাগানিকে ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত এনআইএ-র হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিল কলকাতার ব্যাঙ্কশাল আদালত। সুজাপুরে রাস্তা অবরোধ ও বিডিও অফিসে বিচারকদের আটকে রাখার অভিযোগে এই মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্ত আরও জোরদার হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার ধৃতদের তোলা হয় ব্যাঙ্কশাল কোর্ট-এর মুখ্য বিচারক সুকুমার রায়ের এজলাসে। সেখানে এনআইএ দাবি করে, মোফাক্কেরুলই ছিলেন এই ঘটনার ‘মূলচক্রী’। তদন্তকারীদের বক্তব্য, তাঁর উসকানিতেই পরিস্থিতি দ্রুত অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

এনআইএ-র পক্ষের আইনজীবী শ্যামল ঘোষ আদালতে জানান, ঘটনার প্রকৃত চিত্র সামনে আনতে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি। বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোনগুলির ফরেনসিক পরীক্ষাও প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, মোফাক্কেরুল একজন পেশাদার আইনজীবী—তাঁর পালানোর সম্ভাবনা নেই। শর্তসাপেক্ষে মুক্তির আর্জিও তোলা হয়। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয় এবং দু’জনকেই এনআইএ হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।

উল্লেখ্য, গত ১ এপ্রিল মালদহের মোথাবাড়ি-তে এসআইআর বিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সাতজন বিচারককে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার ঘটনা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে বিষয়টি পৌঁছে যায়সুপ্রিম কোর্টের দোরগোড়ায়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশেই বর্তমানে এই মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ১২টি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য—যা এই মামলাকে আরও জটিল করে তুলছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন