উচ্চপ্রাথমিকে কর্মশিক্ষা এবং শারীরশিক্ষার শিক্ষক নিয়োগে (Upper Primary Teacher Recruitment) দুর্নীতি নিয়ে সিবিআইয়ের চার্জশিট ঘিরে তৈরি হল নতুন বিতর্ক। হাই কোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, সিবিআই কোন নির্দিষ্ট নথি বা তথ্যের ভিত্তিতে চার্জশিটে চাকরি বিক্রির দাবি করল?
মঙ্গলবার বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চে এই প্রশ্ন তুলে জানানো হয়েছে, ‘‘উচ্চপ্রাথমিকে সিবিআইয়ের আলাদা কোনও তদন্ত নেই। অথচ প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার চার্জশিটে বলা হয়েছে, কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষায় টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়া হয়েছে। এই তথ্যের উৎস কী?’’



💼 চার্জশিটে চাকরি বিক্রির অভিযোগ, কিন্তু কোথা থেকে এল প্রমাণ?
সিবিআই ইতিমধ্যে প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় একটি চার্জশিট দাখিল করেছে, যেখানে উল্লেখ রয়েছে কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা নিয়োগেও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি বিক্রির অভিযোগ।
কিন্তু হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ—এই প্রসঙ্গ উচ্চপ্রাথমিকের, যেখানে এখনও সিবিআইয়ের কোনো তদন্ত হয়নি।
তাই আদালত জানতে চায়, সিবিআই এই অভিযোগ কোন তদন্তের ভিত্তিতে করল? কোন নথিতে এই তথ্য পাওয়া গেছে? সেই নথি বা সাক্ষ্য প্রমাণ আদালতে পেশ করতে হবে।
🧾 এসএসসিকে নির্দেশ: মেধাতালিকা জমা দিতে হবে
এদিন আদালত স্কুল সার্ভিস কমিশনকেও (SSC) নির্দেশ দেয়, উচ্চপ্রাথমিকে কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষা নিয়োগের সম্পূর্ণ মেধাতালিকা আদালতে জমা দিতে হবে। আগামী ১ জুলাই-এর মধ্যে সিবিআই এবং এসএসসি—উভয়কেই তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানাতে হবে।


📊 কত শূন্যপদ ছিল এই নিয়োগে?
কর্মশিক্ষা:
ঘোষিত শূন্যপদ: ১২৩৭, অতিরিক্ত শূন্যপদ: ৭৫০
শারীরশিক্ষা:
ঘোষিত শূন্যপদ: ১০১৯, অতিরিক্ত শূন্যপদ: ৮৫০
এই বিপুল সংখ্যক শূন্যপদের মধ্যে যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে কীভাবে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ হয়েছে—তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
🧑⚖️ পরবর্তী শুনানি কবে?
বিচারপতি বসুর বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী ১ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিনের মধ্যেই সিবিআই ও এসএসসিকে সমস্ত তথ্য ও নথি জমা দিতে হবে।
🔍 এই মামলার গুরুত্ব কোথায়?
এই ঘটনা নিছক একটি দুর্নীতির অভিযোগ নয়, বরং তা পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে বড় ইঙ্গিত। যদি সিবিআই সত্যিই চাকরি বিক্রির প্রমাণ পেয়েই চার্জশিটে তা যুক্ত করে থাকে, তবে তার পক্ষে যথাযথ তথ্য-নথি থাকা উচিত। আবার, যদি তা না থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠবে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েই।
❓FAQ
Q1. উচ্চপ্রাথমিকে সিবিআই তদন্ত কি শুরু হয়েছে?
➡️ এখনও পর্যন্ত উচ্চপ্রাথমিকে কোনও আলাদা তদন্ত শুরু করেনি সিবিআই।
Q2. চাকরি বিক্রির কোন প্রমাণের ভিত্তিতে চার্জশিট দিয়েছে সিবিআই?
➡️ এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট। সিবিআইকে নথিপত্র সহ জবাব দিতে বলা হয়েছে।
Q3. এই মামলার পরবর্তী শুনানি কবে?
➡️ পরবর্তী শুনানি ১ জুলাই, ২০২৫।
Q4. কত শূন্যপদে নিয়োগ হয়েছিল এই বিভাগে?
➡️ কর্মশিক্ষায় ১৯৮৭টি এবং শারীরশিক্ষায় ১৮৬৯টি শূন্যপদে নিয়োগ হয়েছিল।







