‘নিশ্চিন্তে থাকো, এ দেশ আমাদেরই’—রহমান বিতর্কে ধর্মীয় বিভাজনে ইতি টানার বার্তা সিনিয়র ওয়াহিদা রহমানের

এ আর রহমানের ধর্মীয় বিভাজন সংক্রান্ত মন্তব্য ঘিরে উত্তাল বলিউডে সংযমের বার্তা ওয়াহিদা রহমানের—‘শান্তিতে থাকো, এ দেশ আমাদেরই’।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বলিউডে কি ধর্মীয় বিভাজনের ছায়া পড়েছে? গত এক সপ্তাহ ধরে এই প্রশ্নেই উত্তাল সিনে-দুনিয়া থেকে রাজনৈতিক মহল। অস্কারজয়ী সুরকার এ আর রহমান-এর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক উসকে উঠলেও, এ বার সেই চর্চায় সংযমের বার্তা দিলেন হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী ওয়াহিদা রহমান সাফ জানিয়ে দিলেন—এই ধরনের বিভাজনের রাজনীতিতে মন না দিয়ে শান্তিতে থাকার সময় এসেছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এ আর রহমান দাবি করেছিলেন, গত আট বছরে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বলিউডে তাঁর কাজ কমেছে এবং এর নেপথ্যে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ কাজ করে থাকতে পারে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেন, কেউ মুখের উপর এ কথা বলেননি—কেবল কানাঘুষো শুনেছেন। তবু এই মন্তব্যের পরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তবে কি মুসলিম শিল্পীরা বলিউডে কোণঠাসা হচ্ছেন?

এই বিতর্কে পাল্টা যুক্তি তুলে ধরে রাজনৈতিক মহল, বিশেষত বিজেপি, উদাহরণ হিসেবে সামনে আনে বলিউডের দুই সুপারস্টার—শাহরুখ খানসলমন খান—যাঁদের তিন দশকের দাপুটে কেরিয়ার ধর্মীয় বৈষম্যের তত্ত্বকে নস্যাৎ করে বলেই দাবি তাদের।

এই টানাপড়েনের মাঝেই ওয়াহিদা রহমানের মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে বিতর্কে। স্পষ্ট ভাষায় তিনি বলেন,
“আমি এসব বিতর্কে মন দিতে চাই না। সব দেশেই ছোটখাটো সমস্যা থাকে। তবে আমার বয়সের অভিজ্ঞতা থেকে শুধু এটুকুই বলব—শান্তিতে থাকো। এ দেশ আমাদেরই। খুশি থাকাই সবচেয়ে জরুরি।”

শুধু আবেগের জায়গা নয়, বাস্তবতাকেও সামনে রেখেছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। রহমানের কাজ কমে যাওয়ার পেছনে ধর্মীয় কারণ দেখার প্রবণতাকেও তিনি মানতে নারাজ। ওয়াহিদার ব্যাখ্যা,
“ইন্ডাস্ট্রিতে কাজের গ্রাফ সবসময় ওঠানামা করে। যুগ বদলায়, চাহিদা বদলায়। একটা সময়ের পর নতুন মুখ বা নতুন ধারার প্রয়োজন হয়। এতে কেউ পিছিয়ে পড়তেই পারেন। এর সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক নাও থাকতে পারে।”

তাঁর মতে, সাফল্যের শীর্ষে থাকা মানেই চিরকাল কাজের অফার আসবে—এই ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। বলিউডে এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়, বরং ইন্ডাস্ট্রির স্বাভাবিক নিয়ম।

উল্লেখ্য, বিতর্ক শুরু হওয়ার পর রহমান নিজেও ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছিলেন, তিনি কাউকে আঘাত করতে চাননি। তবু তাঁর মন্তব্য ঘিরে যে চর্চা শুরু হয়েছে, তা থামেনি। বরং তা ছড়িয়েছে শিল্পী-সমাজ, রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক মাধ্যমে।

সব মিলিয়ে, ওয়াহিদা রহমানের সংযত ও অভিজ্ঞ কণ্ঠস্বর এই উত্তপ্ত বিতর্কে এক ধরনের ইতি টানার আহ্বান—যেখানে বিভাজনের বদলে শান্তি, অভিজ্ঞতার বদলে আবেগ নয়, বাস্তবতার দিকেই তাকানোর বার্তা স্পষ্ট।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত