আগামী ১ নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision 2025)। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, এবার এই প্রক্রিয়ায় নতুন ভোটার তালিকা সংযোজন, পুরনো তথ্য সংশোধন এবং মৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার কাজ চলবে একসঙ্গে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও ১ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এই ভোটার লিস্ট রিভিশন। এটি চলবে ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। কমিশনের নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—এই সময়ে সমস্ত নাগরিককে প্রয়োজনীয় নথি সহ আবেদন জমা দিতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্রের গুরুত্ব
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR 2025) প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে হলে পরিচয় ও বয়সের প্রমাণপত্র থাকা অত্যাবশ্যক। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, পরিচয় প্রমাণের জন্য ১১টি সরকারি নথির মধ্যে যে কোনও একটি জমা দেওয়া যাবে।
এসব নথির মধ্যে রয়েছে:
সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, বার্থ সার্টিফিকেট, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, স্থায়ী বসবাসের প্রমাণপত্র, জমি বা বাড়ির বরাদ্দ সার্টিফিকেট, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা পারিবারিক রেজিস্ট্রেশন কপি ইত্যাদি।
জন্মসালের ভিত্তিতে নথি জমা দেওয়ার নিয়ম
১ জুলাই ১৯৮৭ সালের আগে জন্মগ্রহণকারী নাগরিকদের জন্য:
এই শ্রেণির আবেদনকারীদের কেবল একটি নথি জমা দিলেই চলবে। উপরোক্ত ১১টি বৈধ নথির মধ্যে যেকোনও একটি দিলেই বয়স ও পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।
যদি আপনার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থেকে থাকে, তবে সেই তালিকার একটি অনুলিপিই যথেষ্ট। অন্য কোনও নথি জমা দিতে হবে না।
১ জুলাই ১৯৮৭ থেকে ১ জানুয়ারি ২০০২ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য:
এই শ্রেণির ক্ষেত্রে দুটি নথি আবশ্যক। একটি নিজের পরিচয়ের প্রমাণ, আরেকটি বাবা বা মায়ের পরিচয়পত্র বা ২০০২ সালের ভোটার তালিকার কপি।
১ জানুয়ারি ২০০২ সালের পরে জন্মগ্রহণকারীদের জন্য:
এই শ্রেণির নাগরিকদের তিনটি নথি জমা দিতে হবে—নিজের একটি বৈধ পরিচয়পত্র, এবং বাবা-মায়ের প্রত্যেকের জন্য পৃথকভাবে একটি করে নথি। যদি তাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় থাকে, সেই তালিকার কপিও গ্রহণযোগ্য হবে।
আগাম প্রস্তুত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার সময় নাগরিকদের সঠিক নথি, ঠিকানা প্রমাণ, এবং বয়স যাচাইপত্র প্রস্তুত রাখতে হবে। আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট যাচাই করে নিলে পরবর্তী প্রক্রিয়া সহজ ও ঝামেলামুক্ত হবে।
এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই প্রকাশিত হবে নতুন ভোটার তালিকার খসড়া। তাই সময় নষ্ট না করে এখনই আপনার প্রমাণপত্র প্রস্তুত রাখুন, যাতে আবেদন জমা দেওয়ার সময় কোনও বাধা না আসে।
SIR 2025 নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রতিটি ব্লক, পৌরসভা এবং ওয়ার্ড অফিসে Booth Level Officer (BLO) দের মাধ্যমে প্রচার অভিযান চালানো হবে। নাগরিকরা চাইলে অনলাইনেও ভোটার তালিকা সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে সহজেই ফর্ম-৬, ফর্ম-৭ বা ফর্ম-৮ পূরণ করে আবেদন জমা দেওয়া যাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবার SIR 2025 প্রক্রিয়া ডিজিটাল হবে অনেকটাই। ফলে ভোটারদের জন্য থাকবে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ পরিষেবা।
বিশেষ নিবিড় সংশোধন ২০২৫ শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, এটি নাগরিক অধিকার রক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সঠিক নথি, সঠিক সময়ে জমা দিলে আপনার ভোটার আইডি-সংক্রান্ত কোনও সমস্যাই থাকবে না।



