৫০০ কোটির গরু পাচার মামলায় বিনয় মিশ্র এবার ধরা পড়বেন? তৎপর CBI, ১৩ অগস্ট শুনানি

গরু পাচার মামলায় দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকা বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে ফের সক্রিয় CBI। রাউস অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন, ১৩ অগস্ট শুনানি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

গরু পাচার মামলায় ফের তৎপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত এবং তৃণমূলের প্রাক্তন যুব নেতা তথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিনয় মিশ্রকে গ্রেফতার করতে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ CBI আদালতে আবেদন করেছে তদন্তকারী সংস্থা। আদালতে তাঁকে দীর্ঘদিনের পলাতক হিসেবে উল্লেখ করে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আর্জি জানানো হয়েছে। আগামী ১৩ অগস্ট সেই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা।

গরু পাচার মামলার তদন্তে বিনয় মিশ্রের নাম প্রথম থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। CBI-এর দাবি, ২০২০ সালে এই মামলার তদন্ত শুরু হওয়ার পরই দেশ ছাড়েন বিনয়। পরে তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াটুর নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন বলে তদন্তকারী সংস্থার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, ভানুয়াটুর পাসপোর্ট এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য ভারতীয় দূতাবাসকেও জানিয়েছিলেন বিনয়। তবে বিদেশে থাকার পরও তাঁর গতিবিধি নিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে বলে CBI সূত্রের দাবি। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভানুয়াটুর নাগরিকত্ব থাকলেও দুবাই ও লন্ডনের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং বছরের বড় অংশ লন্ডনে কাটান তিনি।

CBI সূত্রে আরও দাবি, ২০২১ সাল থেকেই বিনয় মিশ্রের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের মাধ্যমেও তাঁর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি চালানো হয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থার সূত্রের দাবি।

এই মামলায় বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগও গুরুতর। CBI-এর তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গরু পাচারের একটি বড় চক্র সক্রিয় ছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই বেআইনি কারবারে BSF, রাজ্য পুলিশ এবং কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও নেতার একাংশের যোগসাজশ ছিল।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ওই চক্রের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকারও বেশি অবৈধ লেনদেন হয়েছিল। সেই বিপুল অর্থের একটি অংশ প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিনয় মিশ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলেও CBI-এর অভিযোগ।

এর আগেও গরু পাচার মামলায় বিনয় মিশ্রের একাধিক সম্পত্তিতে তল্লাশি চালিয়েছিল CBI। তাঁকে তদন্তে হাজির হওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিস দেওয়া হলেও তিনি হাজির হননি বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিস এবং গ্রেফতারি পরোয়ানার মতো আইনি পদক্ষেপ করা হয়।

২০২১ সালে CBI-এর চার্জশিটেও বিনয় মিশ্রের নাম উঠে আসে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ ছিল, গরু পাচার চক্রের অন্যতম অভিযুক্ত এনামুল হকের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল এবং পাচারের অর্থের একটি অংশ তাঁর মাধ্যমে সরানো হয়েছিল। আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে বিনয়ের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় অভিযোগ আনার কথা উল্লেখ রয়েছে।

বিদেশে থাকার বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ২০২০ সালের ডিসেম্বরেই বিনয় ভারতীয় নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন এবং পরে ভানুয়াটুর নাগরিকত্ব নেন বলে বিভিন্ন তদন্তকারী সূত্রের উল্লেখ রয়েছে। এর আগে তিনি দুবাইয়ে গিয়েছিলেন বলেও CBI সূত্রে দাবি করা হয়েছিল।

তবে এই মামলায় বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি এখনও আদালতে বিচারাধীন এবং তদন্তকারী সংস্থার দাবি হিসেবেই সেগুলি উল্লেখ করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে CBI-এর পদক্ষেপ এবং বিদেশে অবস্থান নিয়ে আইনি লড়াইও হয়েছে। ফলে ১৩ অগস্ট রাউস অ্যাভিনিউয়ের বিশেষ আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদনে কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন