পিছিয়ে নয় শীর্ষে বাংলা, টিকা মন্তব্যে নাড্ডাকে গাড্ডায় ফেলল জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের তথ্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: পিছিয়ে নয় শীর্ষে বাংলা, বলছে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের তথ্য। কিন্তু আজ বিজেপি সভাপতি বললেন সবার থেকে পিছিয়ে বাংলা! দীর্ঘ সময় পরে নিজেদের হারের কাঁটাছেড়া করতে বসেছিল টিম বঙ্গ বিজেপি। বাংলায় গেরুয়া শিবিরের কার্যকারিনী মেগা বৈঠকে কেউ কেউ এসেছিলেন সশরীরে, কেউ বা বক্তৃতা দিয়েছেন ভার্চুয়ালি। তবে বৈঠক শেষে রাজনৈতিক মহল বলছে, দিলীপ থেকে জে. পি নাড্ডা সকলেই নিজেদের দলের ব্যাপক হারের আত্মসমালোচনার বদলের চিরাচরিত শাসক দলের দোষ ত্রুটি ধরিয়ে দিতেই বেশি তৎপর ছিলেন। তৃণমূল কী পারেনি আর পেরেও কী করেনি সেই নিয়েই আলোচনা হয়েছে বিস্তর।

আরও পড়ুনঃ টীকাকরন থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নজরদারি, সবদিক থেকেই দেশে শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ।

তবে বৈঠকের প্রথম ভাগে দিলীপের আত্মসমালোচনার বদলে আত্মতুষ্টি সুরখিতে উঠে এসেছিল, আর শেষভাগে আলোড়ন মুহুর্তে সবথেকে বেশি চর্চায় নাড্ডার মন্তব্য। আজ সশরীরে বাংলায় এসে বক্তৃতা দিতে না পারলেও পরিকল্পনা মতোই দিনের শেষ ভাগে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আর সেখানে দলের আত্মসমালোচনার বদলে তাঁর গলায় শোনা গেলো দিলীপের মতোই আত্মতুষ্টি। বাংলায় বিরোধী দল হিসেবে উঠে আসাকেই এই মুহুর্তে সামনে রাখছে গেরুয়া শিবির। তবে তার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে সামনে এসেছে তৃণমূলের সমালোচনা।

ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসাকে গত কয়েকমাসে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে বিজেপি। আজকের বৈঠকে সেই উদাহরণ নিয়ে নাড্ডা বলেন আসাম, কেরালা, তামিলনাড়ু সর্বত্র ভোট হওয়ার পরেও শুধুমাত্র তৃণমূল নেই বলেই কোনো হিংসা ছড়ায়নি। বাংলায় শাসক দল জোটের আসনে বসে হিংসা খেলায় মেতেছে। শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার থেকে ঘর ছাড়াদের কথা বাকিদের মতোই তুলে এনেছেন তিনি। এমনকী তিনি বলেন মহিলারাও এরাজ্যে নিরাপদ নন। তাঁদের উপর অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে। যদিও বাস্তব বলছে ভিন্ন কথা। খোদ কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্ট বলছে, দেশের মধ্যে মহিলাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ শহর হল কলকাতা।

আরও পড়ুনঃ চতুর্থ টীকা পাচ্ছে দেশ, মডার্নার ভ্যাকসিন আমদানির ছাড়পত্র পেল সিপলা।

এরপর ভ্যাকসিন নিয়ে নাড্ডা বলেন, বাংলায় মমতা সরকার চলে বলেই ভ্যাকসিন দুর্নীতি চলছে। ভ্যাকসিন কেলেঙ্কারি নিয়ে এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী যোগের কথা বলেছিলেন দিলীপ। তবে আজ নাড্ডা সেই বিষয়ে একধাপ এগিয়ে বলেন, শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রীর নীতির ওপর, ভ্যাকসিন বন্টনের ওপর প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর দেশের প্রধানমন্ত্রী বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে বাংলায় ভ্যাকসিন দুর্নীতি হচ্ছে। নাড্ডা বলছেন ‘মমতা জি আর টিকা দুর্নীতি সমার্থক’! বিজেপি সভাপতির ব্যাখ্যা অনুযায়ী দেশের মধ্যে টিকাকরনে সবথেকে পিছিয়ে পশ্চিমবঙ্গ! এই রাজ্যে ভুয়ো ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ চলছে।

যদিও বাস্তব বলছে অন্য কথা। পিছিয়ে নয় শীর্ষে বাংলা, পরিসংখ্যান বলছে দেশের মধ্যে কেরালা এবং বাংলায় ভ্যাকসিন নষ্ট হয়নি কোনো। ইতিমধ্যে রাজ্য জুড়ে বহু সংখ্যক মানুষকে ভ্যাকসিন প্রদান করেছে বাংলা সরকার। তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পরেই মমতা বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন এই মুহুর্তে তাঁর প্রধান লক্ষ্য করোনা সামলানো। বিনামূল্যে ভ্যাকসিনের কারণে বারবার চিঠি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে। উদ্যোগ নিয়ে টিকা কিনে রাজ্যবাসীর টিকাকরণ শুরু হয়েছিল অনেক আগেই। যেখানে গোটা দেশের মধ্যে টিকাকরণ এবং টিকা অপচয় না করার কারণে শীর্ষ স্থানে বাংলা, এদিকে টিকা কেলেঙ্কারি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় এখনও পর্যন্ত দু’কোটি ১৭ লক্ষ লোককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে ১ কোটি ৯৯ লক্ষ ভ্যাকসিন পাওয়া গিয়েছে। বাকি ১ কোটি ৯৮ লক্ষের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার!

এদিন ভার্চুয়াল বৈঠকে নাড্ডা বলেন, কেন্দ্র বাংলার ২০ লক্ষ কৃষককে কিষান সম্মান নিধির সুবিধা দিয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে ১.২২ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট এখন দাঁড়িয়েছে ২.১১ লক্ষ কোটি টাকায়। নাড্ডার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধির অধীনে ১০ কোটি কৃষককে টাকা দেওয়া হয়েছে। যদিও বাস্তব চিত্র অন্য। কারন, রাজ্য যত কৃষক প্রধানমন্ত্রীর কিষান সম্মান নিধি সুবিধা পান তার চেয়ে অনেক বেশি কৃষক রয়েছেন রাজ্য সরকারের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের অধীনে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভোটে জিতে শপথ নেওয়ার পরেই পালন করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষমতায় আসার পর কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১০ হাজার করে দিয়েছেন!

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন