টীকাকরন থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নজরদারি, সবদিক থেকেই দেশে শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ টীকাকরন থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নজরদারি, সবদিক থেকেই দেশে শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ।করোনার বিরুদ্ধে দীর্ঘকালীন লড়াই জেতার একমাত্র পথ ব্যাপক হারে টীকাকরণ। একথা বারবার বলছেন বিশেসজ্ঞ ও চিকিৎসকেরা। এদিকে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার পরেই দেশে অক্সিজেনের সাথেই ব্যাপক হারে অভাব দেখা যাচ্ছিল ভ্যাকসিনের। চাহিদার তুলনায় জোগান অনেক কম থাকায় বারবার ভ্যাকসিন ড্রাইভে ধাক্কা খেতে হচ্ছিল রাজ্যগুলিকে। এদিকে গত সোমবার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানান এবার সমগ্র দেশবাসীকে বিনামূল্যে টিকা দেবে কেন্দ্র।

আরও পড়ুনঃ পাতে ইলিশ পড়লেই নাকি করোনা হবে ফিনিশ! তেমনই দাবি পুষ্টিবিদদের।

এরই মধ্যে এক নয়া তথ্য কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও স্বস্তি দেয় রাজ্যবাসীকে। মেট্রো শহরগুলির মধ্যে টীকা প্রদানে প্রথম স্থানে রয়েছে তিলোত্তমা কলকাতা। কিছুদিন সংবাদ পত্রিকার খবরের ছবিসহ এই খবর নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন পুর ও নগরোন্নায়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেখানে লেখা রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ভ্যাকসিনের নিরিখে কলকাতায় এগিয়ে।। সেখানে আরও লেখা রয়েছে টিকাদানে মেট্রো শহরের মধ্যে তিলোত্তমাই প্রথম। আর এবার গোটা দেশের নিরিখে ভ্যাকসিন প্রদানেও প্রথম স্থান অধিকার করল পশ্চিমবঙ্গ। গণটিকাকরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যকেই দেশের এক নম্বরে স্থানে বসাল জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (ন্যাশনাল হেলথ মিশন), সংক্ষেপে এনএইচএম। গত ১৭ জানুয়ারি গোটা দেশে করোনার টিকাকরণ  শুরু হয়েছে। ঠিক তখনই সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে টিকাদানের হার যাচাই করতে সমীক্ষা শুরু করে এনএইচএম।

কয়েক দিন আগে মিশনের অধিকর্তা তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব বন্দনা গুরনানি স্বাস্থ্য দপ্তরে চিঠি দিয়ে জানান, দেশের মধ্যে গণটিকাকরণে পশ্চিমবঙ্গই শীর্ষে। শুধু তা-ই নয়, টিকা নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নজরদারির ক্ষেত্রেও বড় রাজ্যগুলির মধ্যে বাংলা পয়লা নম্বরে। চিঠিতে এই সাফল্যের অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি। পরিসংখ্যান জানাচ্ছে  পশ্চিমবঙ্গে টিকার হার ৮৯%। এর পরেই রয়েছে চণ্ডীগড়। তৃতীয় স্থানে তামিলনাড়ু। এই দু’টি রাজ্যের মধ্যে পার্থক্য খুব কম। গত অর্থবর্ষের তুলনায় এবার বাংলায় করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার চাহিদাও যে অনেকটা বেড়েছে, তারও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, করোনা টিকা নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য দপ্তরের পদক্ষেপের তারিফ করে মিশনের বক্তব্য, টিকাদানের পর যেভাবে টানা নজরদারি করা হয়, তা যথেষ্ট সন্তোষজনক।

অন্যদিকে বৃহৎ ৯ রাজ্যগুলির এই তালিকায় একদম শেষে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নিজের রাজ্য গুজরাট। এনএইচএমের স্কেল অনুযায়ী গুজরাট এবং রাজস্থানের অবস্থান ‘পুওর’। করোনা মোকাবিলায় দুই রাজ্যকে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠার পরামর্শও দিয়েছে ওই সংস্থা। এদিকে রাজ্যের সাফল্য নিয়ে স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম জানান, “গণটিকাকরণের মাধ্যমে রাজ্যে করোনা সংক্রমণ রুখতে নানাবিধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, প্রাপ্তবয়স্ক সব নাগরিককে করোনা টিকার আওতায় আনা। সেই কর্মসূচি নিয়েই কাজ চলছে।” তাঁর মতে, স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগে এই সাফল্য। একই অভিমত, স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তীরও। খুশি সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলি।

টীকাকরন থেকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় নজরদারি, সবদিক থেকেই দেশে শীর্ষে পশ্চিমবঙ্গ। এসএসকেএম হাসপাতালের জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মৌসুমী বোস বলেন, “ছুটির দিনেও আমরা কাজ করছি। এই পারফরম্যান্স আমরা যে কোনও মূলে্য ধরে রাখার চেষ্টা করব।” সমস্ত বিভাগের মানুষের যৌথ প্রচেষ্টাতেই এই সাফল্য বলেই মনে করছেন তাঁরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Arka Sana

Arka Sana

Founder & Editor, Najarbandi
16+ Years Experience • Political Reporting • Investigative Journalism • Digital Publishing

অর্ক সানা একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, মিডিয়া উদ্যোক্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। অপরাধ সাংবাদিকতা, রাজনৈতিক রিপোর্টিং, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এবং ডিজিটাল নিউজ প্রকাশনায় তাঁর ১৬ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি নজরবন্দি-র প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক।

View Full Author Profile →

বিজ্ঞাপন

আরও খবর