নজরবন্দি ব্যুরোঃ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের ক্ষেত্রে সিবিআইয়ের সিট গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুক্রবার সিবিআইয়ের তরফে সেই সিটের সদস্যদের তালিকা আদালতের কাছে পেশ করা হয়েছে। কিন্তু তাতে যুগ্ম অধিকর্তার নাম না থাকায় বেজায় চটলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
আরও পড়ুনঃ Sasth Sathi: স্বাস্থ্যসাথী নিয়ে এবার বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের


কেন্দ্রিয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিচারপতির বক্তব্য, যুগ্ম অধিকর্তা যদি সিটের নেতৃত্ব না দিতে পারেন তা হলে উপেন বিশ্বাসকে এই দায়িত্ব দেওয়া হবে। তখন ভাল হবে তো? সিটের মাথা থেকে রাজীব মিশ্রকে সরিয়ে যুগ্ম অধিকর্তা এন বেণুগোপালকে তদন্তে তদারকির দায়িত্ব দিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। অর্থাৎ শিক্ষক নিয়োগে উপেন বিশ্বাস বিরাট ফ্যাক্টর, তা বুঝিয়ে দিলেন বিচারপতি।
শুক্রবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, ছয় আধিকারিককে নিয়ে একটি সিট গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী দলের মাথায় রয়েছেন এসপি পদমর্যাদার রাজীব মিশ্র । দলে থাকবেন এক জন পুলিশ সুপার, দু’জন ডিএসপি ও বাকিরা ইনস্পেক্টর। তদন্তকারী সংস্থার আইনজীবী আরও জানান, রাজীব মিশ্রের নজরদারিতে এই মামলার তদন্ত হবে।

অথচ কয়েকদিন আগেই শুনানি চলাকালীন এজলাসে দাঁড়িয়ে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ তদন্তে যুগ্ম অধিকর্তা পর্যায়ের আধিকারিককে ইনচার্জ করার সুপারিশ করেছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিবিআইয়ের প্রাক্তন যুগ্ম অধিকর্তা উপেন বিশ্বাস। সেইমতো তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। শুক্রবার সেই তালিকায় রাজীব মিশ্রকে সরিয়ে দেন তিনি।



সিটে ৬ জনের নাম সুপারিশ করেছে সিবিআই । তাঁরা হলেন, ধরমবীর সিংহ (এসপি) , সত্যেন্দ্র সিংহ (ডিএসপি),কেসি ভিসিনামূল (এই অফিসারকে পরিবর্তন করতে হবে, মামলাকারীর সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক হবে) , সোমনাথ বিশ্বাস (ইন্সপেক্টর) মলয় দাস (ইন্সপেক্টর),ইমরাম আশিক (ইন্সপেক্টর)।
সিবিআইয়ের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্য়ায় বলেন, এন বেণুগোপাল যুগ্ম অধিকর্তা হয়েছেন। তা হলে তাঁকে এই মামলার তদন্তে ‘ইন-চার্জ’ করতে অসুবিধা কোথায়? বিচারপতির প্রশ্নের জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন, যুগ্ম অধিকর্তার ওপর পূর্বাঞ্চলের পুরো দায়িত্ব রয়েছে। শুধুমাত্র একটি মামলা দেখলে হবে না। যুগ্ম অধিকর্তাকে কলকাতা, শিলিগুড়ি, পোর্ট ব্লেয়ার এবং ভুবনেশ্বর দেখতে হয়। নিয়োগ সংক্রান্ত মামলাও তাঁর নজরে থাকবে । কখনও কখনও তিনি এই মামলার তদন্তও করতে পারেন।
শিক্ষক নিয়োগে উপেন বিশ্বাস বিরাট ফ্যাক্টর! বড় পদক্ষেপ সিবিআইয়ের

এরপরেই বিচারপতি বলেন, যুগ্ম অধিকর্তা যে দায়িত্বেই থাকুন। এই মামলায় অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হবে। যুগ্ম অধিকর্তাকে আমি এই সিটের মাথায় দেখতে চাই। সেটা না হলে আমি উপেন বিশ্বাসকে দায়িত্ব দেব। সেটা ভাল তো? এর পর বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় নির্দেশ দেন সিটের মাথায় নজরদারি এবং তদারকির দায়িত্বে থাকবেন যুগ্ম অধিকর্তা এন বেণুগোপাল।








