নজরবন্দি ব্যুরো: বাংলার দুর্গাপুজোয় বনেদিয়ানা আর বাগবাজার সার্বজনীন যেন সমার্থক। দুর্গাপুজোর ইতিহাসে যত রদবদলই আসুক না কেন, নানা থিমের চমকে দর্শক যত মোহিতই হোক, সাবেকিয়ানা আর আভিজাত্যে বাগবাজারের মাতৃপ্রতিমা চিরকাল স্বাতন্ত্র্য আদায় করে নিয়েছে। তবে পুজোর মাসখানেক আগেও এখনও তৈরি হয়নি মন্ডপ। কমিটির নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে সরগরম বাগবাজার।
আরও পড়ুন: দুর্গা পুজোকে ‘অকালবোধন’ বলা হয় , কেন তা জানেন?


এই দুর্গোৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন ঘিরে রবিবার যে অভিযোগ ওঠে, তাকে নজিরবিহীন বলছেন এলাকার লোকজনও। পুজোর দায়িত্বে কারা থাকবে, তা নিয়ে এবার নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেয় বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি। ২০১০ সালে শেষবার নির্বাচন হয়েছিল। ১২ বছর পর ফের পুজোর আগে ভোটাভুটি। অভিযোগ, সেই নির্বাচন ঘিরেই রবিবার রাতে তুমুল অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয় বাগবাজারে।

পুজোর উদ্যোক্তারা জানান, ১৯৩২ সাল নাগাদ সোসাইটি অ্যাক্টে নথিভুক্ত করা হয় বাগবাজারের পুজো। লাইফ মেম্বার এবং সোসাইটি মেম্বার বলে দু’টি ভাগ রয়েছে সদস্যদের। রয়েছে ১৫১ জনের জেনারেল কাউন্সিল। কাউন্সিলের সদস্যরাই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন সাধারণ সম্পাদক, সভাপতিকে। সঙ্গে আরও ১২ জনের কার্যনির্বাহী কমিটিকেও তাঁরা নির্বাচিত করার কথা। সদস্য পদ ১৫১ জনের থাকলেও বেঁচে রয়েছেন ৮৬ জন।

যার মধ্যে রবিবার ভোট দেন ৭৩ জন। সদস্যদের কথায়, গত বেশ কয়েক বছর ধরে সংশ্লিষ্ট কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন গৌতম নিয়োগী, কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন পার্থ রায়। অভিযোগ ওঠে, বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক পুজোর অডিট রিপোর্ট পেশ করেন না। তাই ১২ বছর পর ফের পুজোর আগে ভোটাভুটি। আর সেই ভোটাভুটিকে কেন্দ্র করেই তুমুল অশান্তি তৈরি হয়। ছেঁড়া হয় ব্যালট।


বাগবাজার সার্বজনীন পুজো ঘিরে ঘোর অনিশ্চয়তা, কমিটির নির্বাচন ঘিরে চরম অশান্তি

নির্বাচনে বাগবাজার সার্বজনীন পুজোর সাধারণ সম্পাদক পদে অংশগ্রহণ করা প্রার্থী গৌতম নিয়োগীর কথায়, “চার বছর ধরে আমি সম্পাদক পদে আছি। আমাদের রবিবার ভোট ছিল। সবই শান্তিপূর্ণভাবে চলছিল। একেবারে অন্তিম পর্যায়ে কিছু অবাঞ্চিত লোক বাইরের গণনাকেন্দ্রে ঢুকে পড়ে। আমরা আলাদা করে অভিযোগ করিনি। পুলিশ ছিল। রিটার্নিং অফিসাররা রিপোর্ট তৈরি করছে প্রেসিডেন্টকে দেওয়ার জন্য। তার কপি থানাতেও জমা দেব আমরা।”







