ভুয়ো ভোটার ও বুথ জ্যাম ঠেকাতে এবার কঠোর পথে হাঁটল নির্বাচন কমিশন। আসন্ন ভোটে প্রতিটি ভোটারকে বুথে প্রবেশের আগে পেরোতে হবে দু’ধাপের পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া। কমিশনের দাবি, এই ‘টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন’ ব্যবস্থাই নিশ্চিত করবে স্বচ্ছ ও নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোট দিতে এলে প্রথমেই বুথের প্রবেশপথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা পরীক্ষা করবেন ভোটারের পরিচয়পত্র। কমিশন নির্ধারিত বৈধ পরিচয়পত্রের অরিজিনাল কপি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক। প্রাথমিক যাচাইয়ে সব ঠিক থাকলে তবেই ভোটারকে এগোতে দেওয়া হবে পরবর্তী ধাপে।
দ্বিতীয় পর্যায়ে দায়িত্বে থাকবেন বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও। তিনি খতিয়ে দেখবেন সংশ্লিষ্ট ভোটারের তথ্য সঠিক কি না এবং ভোটার তালিকার সঙ্গে তা মিলছে কিনা। এই দুই স্তরের যাচাই সফলভাবে পেরোতে পারলেই মিলবে বুথে প্রবেশের অনুমতি এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ।
পুরো প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা, তার উপর কড়া নজর রাখবেন সেক্টর অফিসাররা। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ব্যবস্থায় কোনও রকম গাফিলতি বা ত্রুটি বরদাস্ত করা হবে না। এর লক্ষ্য একটাই—নির্ভুল ভোটার সনাক্তকরণ এবং অনিয়মের সম্ভাবনা শূন্যে নামিয়ে আনা।
শুধু যাচাই প্রক্রিয়াতেই নয়, বুথের নিরাপত্তা ঘিরেও আনা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। ভোটকেন্দ্রের চারপাশে এবার নির্দিষ্ট ‘লক্ষ্মণরেখা’ টানা হবে। সাদা চক দিয়ে বুথ ঘিরে ১০০ মিটার ব্যাসার্ধের একটি সীমানা নির্ধারণ করা হবে, যার ভিতরে শুধুমাত্র বৈধ ভোটারদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে।
এই নির্ধারিত সীমার মধ্যে কোনও রকম জমায়েত, অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতি বা প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কমিশনের নির্দেশ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে এই বিধিনিষেধ কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে, যাতে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত না হয়।
কমিশনের মতে, এই দ্বিস্তরীয় যাচাই ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় মিলিয়ে ভোটপ্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।



