কামদুনি থেকে গেরুয়া শিবিরে—বিজেপিতে যোগ টুম্পা কয়ালের, প্রার্থী হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে

কামদুনি আন্দোলনের মুখ টুম্পা কয়াল বিজেপিতে যোগ দিলেন। প্রার্থী হওয়ার জল্পনা জোরদার, তবে দলের অন্দরেই উঠছে অসন্তোষের প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কামদুনি আন্দোলনের অন্যতম প্রতিবাদী মুখ এবার সরাসরি রাজনীতির ময়দানে। দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে টুম্পা কয়াল যোগ দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টি-তে। রবিবার সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে লকেট চট্টোপাধ্যায়-এর হাত থেকে পতাকা তুলে নিয়ে গেরুয়া শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখালেন তিনি। এর পরই জোর জল্পনা—এবার কি ভোটের ময়দানেও দেখা যাবে টুম্পাকে?

২০১৩ সালের কামদুনি গণধর্ষণ-কাণ্ডের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে প্রতিবাদের এক প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন টুম্পা কয়াল। উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস ঘটনায় গোটা রাজ্য উত্তাল হয়ে ওঠে, আর সেই আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন টুম্পা ও মৌসুমী কয়াল।

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন, শুধুমাত্র আন্দোলন করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা কঠিন—রাজনীতির মঞ্চে এসেই লড়াইটা আরও জোরদার করা সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত।

জানা গেছে, কয়েক দিন আগেই বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য-এর সঙ্গে সল্টলেকে বৈঠক করেছিলেন টুম্পা। সেই আলোচনার পরই তাঁর দলে যোগ দেওয়ার পথ প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

 প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা?

দলে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা—আসন্ন নির্বাচনে কি প্রার্থী করা হবে টুম্পা কয়ালকে?
দলীয় সূত্রে যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে কানাঘুষো চলছে—বিজেপি তাঁকে প্রার্থী করতে পারে।কোন কেন্দ্র থেকে তিনি লড়বেন, তা নিয়েও এখনও স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

যোগদানের পর কী বললেন টুম্পা?

দলে যোগ দিয়ে টুম্পা কয়াল বলেন—
“২০১৩ সাল থেকে বিজেপি আমাদের পাশে ছিল। কলকাতা হাইকোর্টে যখন আমরা নিরাশ হয়েছিলাম, তখন বিজেপিই আমাদের সুপ্রিম কোর্টে যেতে সাহায্য করেছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যে নারী সুরক্ষা এবং দুর্নীতি দমনে বিজেপিই সবচেয়ে কার্যকর দল।

 দলের অন্দরেই প্রশ্ন

তবে টুম্পার যোগদান ঘিরে বিজেপির অন্দরেও কিছু প্রশ্ন উঠছে।
দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের একাংশের অভিযোগ—

  • বাইরে থেকে আসা মুখদের অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে
  • পুরনো কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে না

এই অসন্তোষই কি বারবার নির্বাচনে বিজেপির পিছিয়ে পড়ার কারণ—এমন প্রশ্নও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টুম্পা কয়ালের মতো আন্দোলনের মুখকে দলে টানা বিজেপির একটি কৌশল—
✔️ নারী নিরাপত্তার ইস্যুতে জোর দেওয়া
✔️ জনমানসে পরিচিত মুখকে সামনে আনা
✔️ শাসকদলের বিরুদ্ধে নৈতিক লড়াইয়ের বার্তা দেওয়া

এখন দেখার, এই পদক্ষেপ ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর