রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের একাধিক নেতা-সাংসদকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সেই তালিকায় এবার নতুন করে উঠে এল হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। বিজেপির এক মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের চেষ্টা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
লোকসভা নির্বাচনে হুগলি কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃণমূলের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে তাঁর অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে বিদ্রোহী সাংসদদের ব্লকে তাঁর নাম জড়ানোর পর থেকেই জল্পনা আরও বেড়েছে।
সূত্রের খবর, রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন রচনা। জানা গিয়েছে, সৌজন্য সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে মন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এই তথ্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা শুরু হয়েছে।
তবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দিতে নারাজ সুমনা সরকার। তিনি জানিয়েছেন, একজন সাংসদ হিসেবে রচনা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে চাইতেই পারেন। কিন্তু দলীয় নির্দেশ ছাড়া তিনি কোনও পদক্ষেপ করবেন না। তাঁর কথায়, দলই তাঁর কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পায় এবং দলের সিদ্ধান্ত মেনেই তিনি চলবেন।
সুমনা আরও বলেন, তাঁর বিধানসভার কর্মী-সমর্থকদের মতামতও গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক লড়াইয়ের সময়ে যাঁরা দলের পাশে থেকেছেন, তাঁদের অনুভূতির প্রতিও সম্মান দেখানো প্রয়োজন। ফলে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সেই বিষয়গুলিও বিবেচনা করা হবে।
মন্ত্রী দাবি করেছেন, রচনার ব্যক্তিগত সহকারী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং কার্যালয়ে সাক্ষাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন।
অন্যদিকে, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমের তরফে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে মুখ খোলেননি বলে জানা গিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হওয়ায় এই ঘটনাও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। যদিও একটি সৌজন্য সাক্ষাতের প্রচেষ্টা থেকেই রাজনৈতিক অবস্থান বদলের সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়া ঠিক হবে না বলেও মত তাঁদের।
তবে রচনার এই যোগাযোগের প্রচেষ্টা এবং তা ঘিরে মন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে এই জল্পনা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।



