ইরান ইস্যুতে নরম সুরের পরেই মোদিকে ফোন ট্রাম্পের, কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ?

ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা ও পাঁচ দিনের হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপ, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে বাড়ছে আন্তর্জাতিক জল্পনা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে ‘ইতিবাচক আলোচনা’ এবং আংশিক সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা—এর ঠিক পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের অশান্ত পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের স্বার্থে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা—এই সব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেই দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারতের ভূমিকাকে ঘিরে নতুন করে জোরালো জল্পনা শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হওয়া এই ফোনালাপের কথা জানিয়েছেন ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূত সের্গিও গোর। প্রধানমন্ত্রী মোদিও নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে জানান, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ফোনালাপের সময়টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগের দিনই ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে এবং আপাতত পাঁচ দিনের জন্য দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোয় সামরিক হামলা স্থগিত রাখা হবে। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই সম্ভাব্য সংঘর্ষবিরতির পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।

এই প্রেক্ষাপটে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন দিক নির্দেশ করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ আমেরিকা, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার পরিস্থিতিতে ভারত একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে এবং সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও উঠে আসছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মহলে আরও একটি তথ্য সামনে এসেছে—পাকিস্তানও নাকি এই সংঘাতে মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প-মোদির সরাসরি কথোপকথন ভারতের কূটনৈতিক গুরুত্বকেই আরও জোরালো করছে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর বার্তায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, ভারত সবসময়ই উত্তেজনা হ্রাস ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে। পাশাপাশি তিনি হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও অবাধ ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার ফলেই আপাতত সামরিক পদক্ষেপে বিরতি নেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা নির্ভর করছে দুই পক্ষের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কি অবশেষে শান্তির পথে এগোচ্ছে, নাকি এটি শুধুই সাময়িক বিরতি?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর