২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় মানেই বিপদ—এ কথা আর গোপন রাখলেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। রিপাবলিকান পার্টি যদি মিডটার্ম নির্বাচনে হেরে যায়, তা হলে ডেমোক্র্যাটরা তাঁকে ইমপিচ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে—এই আশঙ্কার কথাই এবার প্রকাশ্যে দলের নেতাদের জানালেন ট্রাম্প। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কংগ্রেসের দখল ধরে রাখাই এখন তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে জরুরি।
মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে হাউস রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “আপনাদের জিততেই হবে। যদি আমরা মিডটার্ম নির্বাচনে না জিতি, তা হলে ওরা (ডেমোক্র্যাটরা) আমাকে ইমপিচ করার হাজারটা কারণ খুঁজে বার করবে।” তাঁর এই মন্তব্যেই স্পষ্ট, আসন্ন নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন ট্রাম্প।


আইন অনুযায়ী, রিপাবলিকানরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে হেরে গেলেও ট্রাম্প সঙ্গে সঙ্গে প্রেসিডেন্ট পদ হারাবেন না। তবে সে ক্ষেত্রে মার্কিন কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে Republican Party। তখন Democratic Party কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার পথ কার্যত খুলে যাবে।
২০২৬ সালের মিডটার্ম নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ House of Representatives-এর ৪৩৫টি আসন এবং উচ্চকক্ষ United States Senate-এর ১০০টি আসনের এক-তৃতীয়াংশ আসনের জন্য লড়াই হবে। এই নির্বাচনের ফলই নির্ধারণ করবে, আগামী দু’বছর ট্রাম্প প্রশাসন কতটা স্বস্তিতে কাজ করতে পারবে।
ইমপিচমেন্ট বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে সাম্প্রতিক ভেনেজ়ুয়েলা অভিযানের পর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে সেখানে সামরিক অভিযান চালিয়ে ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro-কে গ্রেফতার করার ঘটনার পর থেকেই ডেমোক্র্যাট শিবিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই এই অভিযানের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


মেরিল্যান্ডের ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতা April McClain Delaney সোমবার প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সামরিক সিদ্ধান্তের নিন্দা করে তাঁর বিরুদ্ধে ‘অবিলম্বে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া’ শুরু করার আহ্বান জানান। একই সুরে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট সেনেটর Scott Wiener ভেনেজ়ুয়েলায় ‘অবৈধ আক্রমণ’-এর অভিযোগ তুলে ট্রাম্পকে ইমপিচ করার দাবি করেন।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের বক্তব্য কার্যত একটি রাজনৈতিক সতর্কবার্তা—রিপাবলিকানরা যদি ২০২৬-এর মিডটার্মে ব্যর্থ হয়, তা হলে কেবল কংগ্রেস নয়, হোয়াইট হাউসের ভিতেও চাপ আরও বাড়বে। ফলে আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্ব যে শুধু আইনসভা নয়, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের সঙ্গেও গভীর ভাবে জড়িয়ে—তা বুঝিয়ে দিলেন তিনি নিজেই।







