‘আমি না থাকলে মারা যেতেন শাহবাজ!’—ভারত-পাক সংঘর্ষ নিয়ে ফের বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের

ভারত-পাক সংঘর্ষ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন দাবি—তাঁর হস্তক্ষেপ না থাকলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নিহত হতে পারতেন, বাড়ল কূটনৈতিক বিতর্ক।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘর্ষ ঘিরে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আবারও বিতর্কের ঝড় তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনে মার্কিন ক্যাপিটলে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর হস্তক্ষেপ না থাকলে পরিস্থিতি পরমাণু যুদ্ধের দিকে গড়াতে পারত এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ প্রাণ হারাতে পারতেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু করেছে, বিশেষ করে যখন ভারত বারবার তাঁর মধ্যস্থতার দাবি অস্বীকার করেছে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চার দিনের সংঘর্ষ নিয়ে ট্রাম্প অতীতেও একাধিকবার মন্তব্য করেছেন। প্রতিবারই তিনি দাবি করেছেন, তাঁর উদ্যোগেই সংঘর্ষ থেমেছিল। তবে নয়াদিল্লি কখনও সেই দাবি মানেনি। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ প্রকাশ্যে ট্রাম্পের ‘মধ্যস্থতা’র ভূমিকাকে সমর্থন করেছিলেন। এবার সেই প্রসঙ্গেই ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও পাকিস্তান পরমাণু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারত। অনেকেই আমাকে বলেছেন, আমি হস্তক্ষেপ না করলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বেঁচে থাকতেন না।”

Shamim Ahamed Ads

সংঘর্ষে ভারতের কৌশলগত এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রিপোর্টে আগেই উঠে এসেছিল, সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে আকাশপথে কৌশলগত সুবিধা পেয়ে গিয়েছিল ভারত। কিছু বিশ্লেষণে দাবি করা হয়, ভারতীয় বায়ুসেনা আকাশসীমার উপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিল। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যেও পাকিস্তানের দুর্বল অবস্থানের ইঙ্গিত মিলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

‘সিঁদুর অভিযান’ নিয়ে আন্তর্জাতিক রিপোর্ট

গত বছরের মে মাসে শুরু হওয়া ভারত-পাক সংঘর্ষ চার দিন চলার পর যুদ্ধবিরতিতে শেষ হয়। সম্প্রতি সুইৎজ়ারল্যান্ডের গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পারস্পেক্টিভ স্টাডিজ়’-এর রিপোর্টে বলা হয়, ‘সিঁদুর অভিযান’ দক্ষিণ এশিয়ায় বিমানবাহিনীর শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে তুলে ধরেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই অভিযানের পর আকাশযুদ্ধের সক্ষমতায় ভারত অঞ্চলে শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির পথে হাঁটতে বাধ্য হয়।

ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী দাবি নিয়ে প্রশ্ন

এই সংঘর্ষ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য আগেও বিতর্ক তৈরি করেছে। যুদ্ধের সময় কতগুলি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল, তা নিয়ে তাঁর বক্তব্য বারবার বদলেছে। প্রথমে সাতটি, পরে আটটি এবং সম্প্রতি ‘বোর্ড অফ পিস’-এ বক্তৃতায় তিনি দাবি করেন, মোট ১১টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পরস্পরবিরোধী মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে—বিশেষ করে সংঘর্ষে মার্কিন ভূমিকা আসলে কতটা ছিল, তা নিয়েই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত