নজরবন্দি ব্যুরোঃ বাড়ির কাছে বদলি কবে? শিক্ষকদের ভার্চুয়াল মিটে বিপুল সাড়া। সারাদেশের মতো গোটা রাজ্যে করোনা পরিস্থিতি যথেষ্ট ভয়াবহ। প্রতিদিন গড়ে পঞ্চাশ জনের মৃতু হচ্ছে পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। অন্যদিকে, বিগত প্রায় পাঁচ মাস ধরে রাজ্যের বিদ্যালয়গুলিতে পঠন-পাঠন বন্ধ রয়েছে। তবে মিড-ডে-মিল সংক্রান্ত কাজে এবং অন্য বেশকিছু অফিশিয়াল প্রয়োজনে প্রধান শিক্ষক অথবা অন্যান্য সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে। অন্যান্য দপ্তরের ন্যায় শিক্ষা দপ্তরের কাজকর্ম বেশ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে গুলি। গুরুতর জখম পুলিশকর্মী, শুরু তদন্ত।


অভিযোগ, এই পরিস্থিতিতেও শিক্ষা দপ্তর থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির ক্ষেত্রে স্পেশাল গ্রাউন্ডে একটির পর একটি তালিকা প্রকাশিত হচ্ছে। অথচ ‘নিজের জেলায় বদলি নিয়ে’ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে প্রায় সাত মাস হতে চললেও সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলির ব্যাপারে কোনো রকম সদর্থক পদক্ষেপ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না। এতে বদলিপ্রার্থী রাজ্যের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মনে ক্ষোভ জন্মাচ্ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাধারণ বদলির ব্যাপারে সরকার কি সত্যিই আন্তরিক!
বাড়ির কাছে বদলি কবে? বদলিপ্রার্থী ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষিকারা এ বিষয়ে বারংবার মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, শিক্ষা দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির কাছে চিঠি এবং মেল পাঠিয়েছেন। অতি দ্রুত সাধারণ বদলি চালু করার জন্য। একই দাবি বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে। অথচ এতকিছুর পরেও সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। শিক্ষক সংগঠন ইউনাইটেড টিচার্স ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন বিগত দুই বছর ধরে বদলি প্রার্থী শিক্ষকদের “আবেদনের ভিত্তিতে বাড়ির কাছে বদলির” দাবি জানিয়ে আসছে। একদিকে করোনা অতিমারি সংক্রমণ অন্যদিকে লকডাউন এই সবকিছু মিলিয়ে সরাসরি রাস্তায় নেমে কর্মসূচি নিতে না পারলেও অনলাইন প্রক্রিয়ায় ভার্চুয়াল সভার মাধ্যমে তারা বদলি প্রার্থী শিক্ষক শিক্ষিকাদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন।
এ বিষয়ে সংগঠনের সম্পাদক সুশোভন মুখার্জী জানালেন, “করোনা সংক্রমণ কালে বিগত চার মাসে একের পর এক স্পেশাল গ্রাউন্ডে বদলির তালিকা প্রকাশিত হলেও সাধারণ বদলি সম্বন্ধে কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি যাতে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক বদলিপ্রার্থী শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্ষুব্ধ। গতকাল (২৬/০৮ /২০২০), UTWA এর ডাকে দ্বিতীয় পর্যায়ের Virtual Meeting এ নির্দিষ্ট পাঁচটি জেলা’র ( মালদহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বর্ধমান এবং নদীয়া) পাশাপাশি প্রথম মিটিং এ অংশগ্রহণকারী পাঁচটি জেলায় (কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও শিলিগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর) কর্মরত শিক্ষক – শিক্ষিকারা ঘরে বসে অনলাইনে মিটিং এ যোগ দিয়েছিলেন।


আমাদের আশাতীত ১০০ জনের বেশি শিক্ষক ও শিক্ষিকারা, যারা মিটিং এ যোগদান করেছেন, তাদেরকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বহুসংখ্যক শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের ইচ্ছা থাকলেও যান্ত্রিক গোলযোগের কারনে মিটিং এ অংশগ্রহণ করতে পারেননি। আমাদের হিসেব অনুযায়ী, মিটিং এ যোগ দিতে না পারা শিক্ষক – শিক্ষিকার সংখ্যা প্রায় ২৫০ জন। Google Meet application এর দ্বারা ১০০ জনের বেশি participants মিটিং এ যোগদান করতে পারবেন না, এই বিষয়টা আমাদের ধারণার বাইরে ছিল।আগামী দিনে যাতে এই ধরনের যান্ত্রিক গোলযোগের মধ্যে আমরা না পড়ি ও সেইসাথে মিটিং যোগদানে ইচ্ছুক সকল শিক্ষক ও শিক্ষিকারা যাতে সহজেই যোগদান করতে পারেন, সেই বিষয়টি নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা থাকছে। আগামী ২৮ ও ৩০ শে আগস্ট, ২০২০ তে আরও দুটি ভার্চুয়াল মিটিং রয়েছে।”








