বাগদা উপনির্বাচনে মতুয়াগড়ে জিততে মরিয়া তৃণমূল। আর এই উপনির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যেই নয়া রণকৌশল সাজাচ্ছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। যেখানে কেবল মাত্র যোগ্য প্রার্থী চয়নই নয়। রদবদল আনা হয়েছে প্রচার কৌশলের ক্ষেত্রেও। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় বিজেপির আশানুরূপ ফল না হলেও বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্রে জয় ধরে রেখেছে বিজেপি।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সাল থেকেই এই আসনে জয় ধরে রেখেছে বিজেপি। প্রথমবার প্রার্থী হয়েই জেঠিমা মমতাবালা ঠাকুরকে পরাস্ত করে বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর। তারপর থেকেই বিজেপি এই বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রেও একচ্ছত্র বিস্তার লাভ করেছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও বনগাঁ আসনে ৭৫ হাজার ৮৫২ ভোটে তৃণমূল প্রার্থী বিশ্বজিৎ দাসকে পরাজিত করেছেন শান্তনু ঠাকুর। বিধানসভার নিরিখে ৬ টি আসনেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। তার মধ্যে বাগদা বিধানসভায় ২০ হাজার ৬১৪ ভোটে এগিয়ে বিজেপি।



আর তাই এই উপনির্বাচনে বাগদায় ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া হয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই এবার আগেভাগেই রণকৌশল সাজাচ্ছে তৃণমূল। বাগদায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছে প্রয়াত তৃণমূল সাংসদ কপিলকৃষ্ণ ঠাকুরের ছোট মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুরকে। অপর দিকে বিজেপি প্রার্থী করেছে বিনয় কুমার বিশ্বাসকে। যিনি মতুয়া হলেও ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। যার ফায়দা তুলতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। ওপর দিকে ফরোয়ার্ড ব্লকের তরফে প্রার্থী হয়েছেন গৌরাদিত্য বিশ্বাস। তবে লড়াই তবে মধুপর্না ও বিনয় কুমারের মধ্যে।
তবে শুধু প্রার্থী বাছাই নয় প্রচারেও কৌশল গত বদল এনেছে তৃণমূল। যার দায়িত্বে রয়েছেন পার্থ ভৌমিক থেকে শুরু করে রারায়ন গোস্বামী ও মন্ত্রী সুজিত বসুর মতো হেভিওয়েট নেতারা। যেখানে ঠিক করা হয়েছে প্রার্থীর সমর্থনে কোনো বড় সভা বা মিছিল হবে না। বরং প্রার্থীকে নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় ২০০-২৫০জন কর্মীদের নিয়ে ছোট ছোট মিটিং মিছিলের উপর জোর দেওয়া। এবং তৃণমূল প্রার্থীর হয়ে প্রচারে একেবারে মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাবে এই হেভিওয়েট নেতারা। সেই সঙ্গে শুনবেন মানুষের অভাব অভিযোগের কথা। শুধু তাই নয় মতুয়া ভক্তদের বাড়ি গিয়েও তাদের অভিযোগের কথা শুনতে বলা হয়েছে এই দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। তার পাশাপাশি মতুয়াদের সঙ্গে জনসংযোগে জোর দিতে বলা হয়েছে প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর ও মমতা বলা ঠাকুরকেও।


বাগদা পুনরুদ্ধারে মরিয়া তৃণমূল, শান্তনুকে মায়ের অপমানের ‘জবাব’ দেবেন মধুপর্ণা?

উল্লেখ্য, সামনেই ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন আর তার আগে বাগদা সহ রানাঘাট দক্ষিণ, রায়গঞ্জ ও মানিকতলা এই চার উপনির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। যা ২০২৬ এর আগে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে বাগদা থেকে বিজেপির প্রার্থী করা হয়েছিল বিশ্বজিৎ দাসকে। পরে দলবদল করে যোগ দেয় তৃণমূলে। কালক্রমে ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে তাকেই প্রার্থী করে তৃণমূল। তাই বিজেপির বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন। যে কারণেই বাগদায় উপনির্বাচন। তবে এই উপনির্বাচনে বিজেপির ২০ হাজারের বেশি জয়ের ব্যবধানকে ছাপিয়ে যেতে পারে কিনা তৃণমূলের নয়া কৌশল এখন সেটাই দেখার।







