তৃণমূলের অন্দরে কি বাড়ছে অসন্তোষ? দলের সাংসদদের একাংশের মধ্যে বিদ্রোহের জল্পনা তুঙ্গে উঠতেই দিল্লিমুখী হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—দলের ভিতরে তৈরি হওয়া অস্থিরতা সামলাতেই কি এই তড়িঘড়ি দিল্লি সফর?
রবিবার বিকেলে কলকাতার সমস্ত তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে বসার কথা ছিল দলনেত্রীর। কিন্তু পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচির কারণে তাঁকে দিল্লি যেতে হওয়ায় সেই বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক জল্পনা।


দলীয় সূত্রের দাবি, তৃণমূলের ৪১ জন সাংসদের মধ্যে বড় অংশ বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছেন। রাজনৈতিক মহলে এমনও আলোচনা শুরু হয়েছে যে, একাধিক সাংসদ দল না ছেড়েই দলের ভিতরে থেকে ভিন্ন অবস্থান নেওয়ার পথে হাঁটছেন।
সূত্রের খবর, এই সাংসদদের একাংশ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেখানো রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করতে চাইছেন। অর্থাৎ বিজেপিতে যোগদান নয়, আবার দলত্যাগও নয়—বরং দলের মধ্যেই থেকে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান তৈরি করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
লোকসভায় তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মালা রায় এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিলে বাকি অধিকাংশ সাংসদ বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রের দাবি।


একই ধরনের সমীকরণের কথা শোনা যাচ্ছে রাজ্যসভাতেও। তৃণমূলের ১৩ জন রাজ্যসভার সাংসদের মধ্যে ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, মেনকা গুরুস্বামী এবং সাগরিকা ঘোষ ছাড়া বাকিদের নামও অসন্তুষ্ট শিবিরের তালিকায় রয়েছে বলে আলোচনা চলছে রাজনৈতিক মহলে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার দিল্লিতে বিজেপি-বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়ার কথা। প্রথমে দু’জনেরই রবিবার দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে সেই সূচিতে পরিবর্তন আসে।
দলীয় অন্দরমহলের একাংশের দাবি, সম্ভাব্য সাংসদ বিদ্রোহ এবং দলের ভিতরে তৈরি হওয়া অস্বস্তি মোকাবিলার কৌশল নিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেভাগে দিল্লি পৌঁছে গিয়েছেন। যদিও মমতাপন্থী তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য, দলের সাংসদরা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই আস্থা রাখছেন। তবে এই জল্পনা আগামী দিনে তৃণমূল রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



